নেপালের চীন সীমান্তের কাছে রসুয়া জেলায় আচমকাই ভয়াবহ হড়পা বান নেমে এসেছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে তৈরি হওয়া এই দুর্যোগে রাস্তাঘাট, সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালে আটকে পড়েছেন টলিউডের অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও রজতাভ দত্ত। বাংলাদেশের একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। খরাজের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং শুটিং দলের আরও কয়েকজন সদস্য।
খরাজ জানিয়েছেন, আপাতত তাঁরা হোটেলেই নিরাপদে রয়েছেন। গত ২০ অগস্ট নেপালে পৌঁছনোর পর থেকেই আবহাওয়া খারাপ ছিল। প্রবল বৃষ্টির কারণে বারবার শুটিংয়ের কাজে সমস্যা তৈরি হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই কোনওরকমে শুটিং শেষ করেন তাঁরা। এরপর দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও হড়পা বানের কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়। কাঠমান্ডু যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সকালের বিমানও ধরা সম্ভব হয়নি তাঁদের।
এখন বিকল্প পথে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন অভিনেতারা। জানা যাচ্ছে, সড়কপথে ভারত সীমান্তের কাছে গোরক্ষপুরে পৌঁছনোর চেষ্টা করবেন তাঁরা। সেখান থেকে আগামী ২৮ অগস্ট কলকাতার বিমান ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই যাত্রাপথ কতটা সহজ হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আপাতত হোটেলে থেকেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন খরাজ, রজতাভ এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা দলের সদস্যরা।
নেপালের পরিস্থিতি অবশ্য বেশ উদ্বেগজনক। তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় তিমুর এবং স্যাফ্রুবেশি-সহ একাধিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, রাস্তা এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিক থাকার কথাও জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘অন্য পুরুষের এঁটো খেতে কেমন লাগে?’ স্বস্তিকা দত্তের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনের মাঝেই অর্ণবকে তীব্র কটাক্ষ প্রাক্তন শাশ্বতীর! ইপ্সিতা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রেমে পড়েছিলেন এই মডেলের, কেন টিকলো না সম্পর্ক?
এই পরিস্থিতিতে নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারকাজে নেমেছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খরাজ, রজতাভ এবং তাঁদের দলের সদস্যরা দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর।






