‘ওঁরা গ’রু জ’বাই করতেন, যা আমার কাছে অধর্ম’, কানাডার সেই ভ’য়ঙ্কর পুরনো অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন আর মাধবন

অভিনয়ে আসার আগে আর মাধবনের জীবনেও ছিল বেশ কিছু অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ছাত্রজীবনে রোটারি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে কানাডায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন অভিনেতা। সেই সময় স্টেটলার নামে একটি জায়গায় ছিলেন তিনি। সেখানকার জীবনযাত্রা এবং সংস্কৃতি তাঁর পরিচিত পরিবেশের থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। সম্প্রতি সেই পুরনো দিনের কথা ফের আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে যে পরিবারের সঙ্গে তিনি থাকতেন, তাঁদের জীবনযাপন নিয়ে মাধবনের বক্তব্য নতুন করে চর্চা তৈরি করেছে।

এক পুরনো সাক্ষাৎকারে মাধবন জানিয়েছিলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই পুরোপুরি নিরামিষভোজী। অথচ কানাডায় যে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা জীবিকার প্রয়োজনে গরু জবাই করতেন। বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে একেবারেই মেলেনি। তাই সেই অভিজ্ঞতাকে নিজের কাছে ‘অধর্ম’ বলেই মনে হয়েছিল অভিনেতার। তবে একইসঙ্গে মাধবন বুঝেছিলেন, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সংস্কৃতির মধ্যে গিয়ে থাকতে হলে সেখানকার মানুষ ও তাঁদের জীবনযাপনকেও কাছ থেকে বুঝতে হয়।

কানাডায় থাকার সময় শুধু খাবার বা জীবনযাপনের পার্থক্যই নয়, আরও একটি বিষয় তাঁকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। সেখানে একটি বাস্কেটবল দলের অংশ হয়েছিলেন মাধবন। ম্যাচের পর দলের সদস্যদের একসঙ্গে শাওয়ার নেওয়ার নিয়ম ছিল। দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারে বড় হওয়া মাধবনের কাছে এই ধরনের অভ্যাস ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত। কারণ তাঁর পারিবারিক পরিবেশে প্রকাশ্যে পোশাকহীন থাকার চল ছিল না। ফলে শাওয়ার রুমে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর কাছে বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল।

মাধবন আরও জানিয়েছিলেন, প্রথম দিকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। অন্যরা যখন স্বাভাবিক ভাবেই শাওয়ার নিতেন, তখন তিনি নিজের অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে অন্তর্বাস পরেই শাওয়ারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এতে দলের অন্য সদস্যরাও অবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকাতেন। মাধবনের কথায়, সেই সময় তাঁদের আচরণ তাঁকে আরও অস্বস্তিতে ফেলত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সাংস্কৃতিক পার্থক্যের সঙ্গেই নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘সেরে উঠতে সময় লেগেছিল’, কঠিন সময় পেরিয়ে নতুন শুরু মোনালির, গানে-ফ্যাশনে নতুন পথচলা

অভিনেতার জীবনের এই পুরনো ঘটনা আসলে তাঁর জীবনে বিদেশে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতারই একটি অংশ। নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে ধরে রেখেও অন্য সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়কার অস্বস্তিকর মুহূর্তগুলিই পরবর্তীকালে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে ওঠে। অভিনয়জগতে পা রাখার বহু আগে কানাডায় কাটানো সেই সময় যে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলেছিল, মাধবনের কথাতেই তার ইঙ্গিত মেলে।

আরও অন্যান্য খবর