‘অশিক্ষিত, বিবেকহীন!’ ‘বারবার বিতর্কে জড়ালেও সায়ক কারও সন্তান, কারও ভাই!’ ছবি ছুঁলেই নাকি বিপদ? সায়কের ছবি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষো’ভ, জিতুর ‘মুখোশ খোলার’ অপেক্ষায় দর্শক? ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে ঢুকেই জড়ালেন নতুন বিতর্কে?

এই সপ্তাহে ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হয়েছে অভিনেতা জিতু কামালের। এদিন সৌরভ গাঙ্গুলি তাঁকে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর একে একে প্রতিযোগীদের ছবি দেখিয়ে জিতুকে জিজ্ঞাসা করা হয়, শোয়ে কাদের সঙ্গে তিনি মেলামেশা করতে চান। ছবিগুলি দেখার সময় জিতু একে একে বেশিরভাগ সদস্যের ছবি সরিয়ে দেন। তবে তনুশ্রী এবং ঝিলমের ছবি তিনি রেখে দেন। এরপর সায়ক চক্রবর্তীর ছবি সামনে আসতেই বদলে যায় তাঁর আচরণ। ছবিটি ইচ্ছাকৃতভাবে হাত থেকে ফেলে দিয়ে জিতু জানান, এই ছবিতে হাত দিলেই নাকি সর্বনাশ হয়ে যাবে।

জিতুর এই আচরণের ভিডিও ক্লিপ ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি সামনে আসতেই তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একদল দর্শক মনে করছেন, কাউকে অপছন্দ করতেই পারেন জিতু, কিন্তু তাঁর ছবি দেখে এভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো ঠিক হয়নি। আবার অন্য একটি অংশ জিতুর এই কাণ্ড দেখে বেশ মজা পেয়েছেন। তাঁদের মতে, ‘বিগ বস’-এর ঘরে ঢোকার আগেই এমন একটি দৃশ্য সামনে আসায় ভবিষ্যতে সায়ক এবং জিতুর সমীকরণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সায়কের সঙ্গে জিতুর সম্পর্কের টানাপোড়েন আদৌ বাড়ির ভিতরে কোনও নতুন বিতর্ক তৈরি করবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে জিতুর প্রবেশের আগেই এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

তবে জিতুর এই আচরণ নিয়ে একাংশ দর্শকের প্রতিক্রিয়া একেবারেই মজার নয়, বরং যথেষ্ট কড়া। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনায় জিতুর শিক্ষাবোধ এবং বিবেক নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সায়কের ছবি মেঝেতে ফেলে দেওয়ার জন্য যে বিশেষ কারণের কথা জিতু বলেছেন, সেটিও অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। ঘটনার সময় সৌরভ গাঙ্গুলিকেও কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করেছেন ওই দর্শকরা। এরপর সৌরভ দ্রুত প্রসঙ্গটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন বলেও সমাজ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। সায়কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যত বিতর্কই থাকুক, তাঁর ছবির সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। বিশেষ করে একজন মানুষ হিসেবে সায়ক কারও সন্তান, কারও ভাই, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত ছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

জিতুর এই আচরণকে কেন্দ্র করে তাঁর নিজের বক্তব্য এবং আগের কিছু মন্তব্যও টেনে আনছেন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের দাবি, জিতু বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কান্নাকাটি বা আবেগ দেখিয়ে নায়িকাদের ব্যঙ্গ করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সেই কারণে এবার তাঁর নিজের আচরণ নিয়েও একই প্রশ্ন সামনে আনছেন সমালোচকরা। তাঁদের বক্তব্য, অন্যের আবেগ নিয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের আচরণ নিয়েও ভাবা দরকার। একাংশ দর্শক এমনও লিখেছেন যে, জিতু তাঁর এই আচরণের মাধ্যমে নিজের আসল রূপ বা মুখোশ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর শিক্ষাগত পরিচয় নিয়েও কটাক্ষ করেছেন এবং সুরেন্দ্রনাথ কলেজের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। পাশাপাশি সৌরভ গাঙ্গুলির সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল ও কলেজ এবং দক্ষিণ কলকাতার আভিজাত্য ও শিক্ষার সঙ্গে তুলনা টেনে মন্তব্য করতেও দেখা গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিতেই এতদিন লুকিয়ে ছিলেন মিমির ‘সিদ্ধার্থ’! নায়িকার হবু বর কে? ছবি দেখে তুঙ্গে জল্পনা

সব মিলিয়ে, জিতুর ‘বিগ বস’ বাড়িতে প্রবেশের আগেই সায়কের ছবি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। একদিকে যেমন তাঁর আচরণকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না একাংশ দর্শক, তেমনই অন্যরা ঘটনাটিকে নিছক মজার মুহূর্ত হিসেবেই দেখছেন। তবে এই ছোট্ট ঘটনাই ভবিষ্যতে জিতু এবং সায়কের মধ্যে কোনও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার। বিশেষ করে সায়কের ছবি হাতে নিয়ে জিতুর সেই প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে যথেষ্ট নজর কেড়েছে। জিতু বাড়িতে ঢোকার পর দুজনের মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে কী হয়, সেদিকেও নজর থাকবে দর্শকদের। জিতুর মন্তব্য এবং আচরণ নিয়ে যে সমালোচনা শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বাড়ে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে নতুন কোনও বিতর্কের সূত্রপাত হয় কি না, এখন সেই অপেক্ষাতেই দর্শকরা।

আরও অন্যান্য খবর