চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিউটি পার্লারে সাজতে এসেছিলেন তরুণী। কিন্তু মুহূর্তের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন নববধূ সাজে সজ্জিত ওই তরুণী। অভিযোগের আঙুল উঠেছে প্রাক্তন প্রেমিকের দিকে। সেই প্রাক্তন অবশ্য পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে মধ্যপ্রদেশের পুলিশ।
রবিবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের শাজাপুরে। উজ্জয়িনীর এক পাত্রের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল বছর তেত্রিশের এই তরুণীর। বিয়ের জন্য তিনি সাজতে এসেছিলেন স্থানীয় একটি পার্লারে। আচমকাই সেখানে এক যুবক হামলা চালায় এবং ছুরির কোপ গলা কেটে খুন করে ওই তরুণীকে। তারপরই পালিয়ে যায় সে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতচকিত হয়ে যান উপস্থিত সকলেই। বিয়ের সাজেই ওই মহিলার দেহ পড়ে থাকে বিউটি পার্লারে। ঘটনাস্থলে আসে শাজাপুর থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক রাহুলের সঙ্গে প্রায় ৩ বছরের যোগাযোগ ছিল ওই মহিলার। কিন্তু পরে তরুণী জানতে পারেন যে ওই যুবক আসলে বিবাহিত। তিনি তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করেন ওই যুবকটিকে। ফলে ওই তরুণীর উপর আগে থেকেই আক্রোশ ছিল ওই যুবকের। এর আগেও ওই তরুণী কে হুমকি দেয় অভিযুক্ত যুবক। এমনকি ওই যুবকের জন্য তরুণীর আগের একটি বিয়েও ভেঙে যায়।
রবিবার সন্ধ্যায় বিয়ের জন্য স্থানীয় একটি পার্লারে সাজতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। সেখানেই বাইকে আসে রাহুল। আচমকাই ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে কনের সাজে থাকা যুবতীর ওপর। এরপর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে পালিয়ে যায়।
ওই পার্লারের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্ত ও এক সঙ্গীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পুলিশ সুপার গৌরব তিওয়ারি জানিয়েছেন যে, “বাইকে করে দুজন সেদিন পার্লারে আসে। একজন ভিতরে ঢোকে, অন্যজন বাইরে দাঁড়িয়েছিল। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।”
ওই তরুণীর পরিবারের দাবি তাঁরা আগে থেকে কিছুই জানতে পারেননি। রাহুল যে এইরকম করবে তা তাঁরা বুঝতে পারেন নি। বিয়ের মাত্র ঘন্টাখানেক আগেই কনের এরকম মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকা জুড়ে।






