প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে টুইট বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের

ভারতীয় রাজনীতিতে শেষ হল এক যুগ। প্রয়াত হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮। শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতের রাজনৈতিক জগতে।

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1288665539536015361?s=20

তাঁর প্রয়াণে শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটে লিখেছেন, “বর্ষীয়ান নেতা, প্রাক্তন সাংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের মৃত্যুতে মর্মাহত। তাঁর পরিবার, অনুগামী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীরভাবে সমবেদনা জানাচ্ছি।”

https://twitter.com/MamataOfficial/status/1288678378036314112?s=20

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করেছেন, “এই কঠিন পরিস্থিতিতে সোমেন মিত্রের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং সমর্থন রইল। আমরা ওঁনাকে স্মরণ করব ভালোবাসা, ভক্তি এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে।”

https://twitter.com/RahulGandhi/status/1288657308772208640?s=20

কংগ্রেসের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিশ্বাসই করতে পারছেন না তাদের প্রিয় ছোড়দা আর নেই। তিনি টুইটে জানিয়েছেন, “সোমেন মিত্র আর নেই এটা ভাবতে পারছিনা, বাংলার একটা অধ্যায় সমাপ্ত হলো। সংগ্রাম করে, প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমার রাজনৈতিক অভিভাবক, আমাকে জনপ্রতিনিধি করার মূল কারিগর সোমেন দা কে হারিয়ে আমি দুঃখে কাতর ও বেদনাহত হলাম।”

https://twitter.com/adhirrcinc/status/1288705493322489856?s=20

হাসপাতাল সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাত দেড়টা নাগাদ তাঁর জীবনাবসান হয়েছে। ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “তিনি ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) এবং অন্যান্য বয়সজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।”

বাংলাদেশের যশোর জেলায় ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সোমেনবাবু। ষাটের দশকের শেষভাগে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে উত্থান এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের।১৯৭২ সালে শিয়ালদহ বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। এরপর সেই আসন থেকেই সাতবার জিতেছিলেন গনি খান চৌধুরীর শিষ্য হিসাবে পরিচিত সোমেন মিত্র।

রাজনীতির ‘ছোড়দা’ সোমেনবাবু তিনবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ফের তাঁকে রাজ্যে কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক জীবন অনেক ওঠানামা দেখেছে। তিনি ঘর দুর্দিনেও কংগ্রেস ছেড়ে যাননি কিন্তু ২০০৮ সালে দল ছেড়ে তৈরি করেছিলেন নিজের দল ‘প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস’। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সেই দল মিশিয়ে দিয়েছিলেন এবং ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলে গিয়েছিলেন।

সেই বছর ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়ে হারিয়েছিলেন সিপিআইএম সাংসদ শমীক লাহিড়িকে। কিন্তু ২০১৪ সালেই সোমেন বাবু ফের নিজের দল কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করেন। তারপর থেকে আমৃত্যু কংগ্রেসেই ছিলেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে শেষ হল ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

আরও অন্যান্য খবর