পাঁচ হাজার দলিতকে পুরোহিতের মর্যাদা দিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। হিন্দু সমাজের বর্ণ বৈষম্য আর অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার এগিয়ে এলো এই হিন্দু সংগঠন। ভারতের নীচু জাতি হিসেবে অবহেলিত দলিত সম্প্রদায়ের পাঁচ হাজার মানুষকে পুরোহিতের মর্যাদা দিল হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। যা ভিএইচপি-র নেওয়া একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলিত সম্প্রদায়ের এই পাঁচ হাজার মানুষকে রীতিমতো প্রশিক্ষণ দিয়ে পৌরহিত্যর পাঠ শিখিয়েছে বিশ্বহিন্দু পরিষদ। আর যার জন্য দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনশালের কথায় ‘ ভিএইচপি ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই হিন্দু সমাজে বর্ণ বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতা দূর করার জন্য কাজ শুরু করে। ১৯৯৯-তে কর্ণাটকের উদুপিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সম্মেলন থেকে বার্তা দেওয়া হয়, সমস্ত হিন্দুই ভাই-ভাই। কেউ অস্পৃশ্য নন। শুধু তাই নয়, এই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন দলিত সমাজের প্রতিনিধি কামেশ্বর চৌপাল। ভিএইচপি নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সাধু-সন্তরা ১৯৯৪ সালে কাশিতে অনুষ্ঠিত ‘ধর্ম সংসদে’ আমন্ত্রণ জানাতে ‘ডোম রাজার’ বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং এমনকী সেখানেও তাঁরা একত্রে খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন।’
বিনোদ বনশাল আরও জানিয়েছেন,‘ হিন্দু সমাজে বর্ণবৈষম্যর মতো কুপ্রথা দূর করতে দেশজুড়ে ৫ হাজার দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে পৌরহিত্যের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। শুধুমাত্র তামিলনাড়ুতে হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে ২,৫০০ পুরোহিত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষিত পুরোহিতরা সরকার পরিচালিত মন্দিরগুলোর প্যানেলেও অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে দলিত পুরোহিতদের প্রশিক্ষণ শেষে শংসাপত্রও প্রদান করা হয়েছে।






