সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) অস্বাভাবিক মৃত্যু তদন্ত করতে গিয়ে বলিউডের মাদক যোগের (Drug) শিকড়ে ঢুকে পড়েছে এনসিবি(NCB)। যত দিন যাচ্ছে এমন সকল চমকপ্রদ তথ্য উঠে আসছে যে রুপোলি পর্দার অন্ধকার দিকটা ক্রমশই প্রকট হয়ে উঠছে।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় মাদক যোগ থাকার কারণে সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী(Rhea Chakraborty) ও তার ভাই সৌভিক চক্রবর্তী এনসিবির হেফাজতে রয়েছেন। এবার রিয়ার ডিলিট করা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এর সূত্রে তদন্তকারীরা পৌঁছে গেলেন পাকিস্তানে(Pakistan)! জানা গেল, অমৃতসর এবং পাকিস্তান থেকে একটি বড় মাদকচক্র কোকেন এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ ড্রাগ বলিউডে পাচার করছিল! এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হই হই রব পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে।
এনসিবি যত গভীরে যাচ্ছে তত রহস্যজট পাকাচ্ছে। ধীরে ধীরে নামকরা বলিউড তারকাদের তালিকা বানাচ্ছে এনসিবি যারা নিশ্চিতভাবে মাদক নেন। এই তালিকা এখনো প্রকাশ্যে না আনলেও তাঁদের গতিবিধি খতিয়ে দেখা শুরু করে দিয়েছে এনসিবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিবির এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, তারা ইতিমধ্যেই একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করেছেন বিটাউনের কারা কারা এই মাদক কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং বলিউডে মুম্বাইয়ের কোন সরবরাহকারী মাদক সরবরাহ করে। যে সকল পাচারকারী ও মাদক সেবনকারী কোকেন, হেরোইন, এমডিএম সহ একাধিক নিষিদ্ধ মাদক ব্যবহার করেন তাদেরকে গ্রেফতার করার আগে এই ধারণাটা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
অমৃতসরের এই মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি কে আগামী সপ্তাহেই সমন পাঠাবে এনসিবি। অন্যদিকে মুম্বাইয়ে যারা কোকেন সরবরাহ করে তাদের তথ্য পেতে এবার বৈদেশিক সাহায্য নিতে চলেছে এনসিবি। এই ব্যাপারে সাহায্যের জন্য তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি গুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে ভারতে ১,২০০ কিলোগ্রাম কোকেন এসেছে, যার মধ্যে কেবল মুম্বইতেই ৩০০ কিলোগ্রাম কোকেন পৌঁছেছিল। আবার গত বছর জুন মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে ৫৫ কিলোগ্রাম কোকেন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার তদন্তকারী সংস্থা ভারতের মাদকচক্র নিয়ে তথ্য পায়। সেই তথ্য এনসিবির কাছে রয়েছে।
এনসিবির কাছে যে তথ্য রয়েছে সেই তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মূলত কোকেন ঢোকে কলম্বিয়া- ব্রাজিল-মোজাম্বিকিউ রূট ধরে। কখনো কখনো দুবাই কিংবা আফ্রিকান দেশ গুলির মাধ্যমে ভারতে কোকেন আসে। কোকেন তৈরির অপরিহার্য সামগ্রী পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট। আর এই রাসায়নিক পদার্থ বিশ্বের সবথেকে বেশি উৎপাদন হয় ভারতে! বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারতে কোকেন তৈরীর কারখানা পরিবার পরিকল্পনা করেছে ড্রাগ মাফিয়ারা। প্রতিদিন ১ টন করে কোকেন ব্যবহার হয় ভারতে!
এছাড়াও বিদেশি ড্রাগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার মাধ্যমে এনসিবি জানতে পেরেছে যে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ অথবা সমুদ্র পথ দিয়ে গুজরাট হয়ে ভারতে আফগান হেরোইনের একটি ইউনিট জাল বিস্তার করছে! ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ এর কাছে বহুদিন ধরেই খবর রয়েছে যে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে নিষিদ্ধ মাদক বিক্রি করে টাকা উপার্জন হয় তা ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করা হয়।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে, সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলায় মাদকচক্রের যোগ নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে এনসিবি রীতিমতো মৌচাকে ঢিল মেরেছে। তাই মারাত্মক সাবধানে এখন পা ফেলতে চাইছে এই কেন্দ্রীয় সংস্থা। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, বলিউডের ট্যালেন্ট কোম্পানি এবং প্রথম সারির অভিনেতা অভিনেত্রীদের নাম এই চক্রে জড়িয়ে পড়ায় রীতিমতো সতর্ক রয়েছে এনসিবি। তবে যেভাবে তারা মাদকচক্র রোধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে তাতে ভবিষ্যতে আর কী কী পর্দা ফাঁস হতে চলেছে সেটাই এখন দেখার।






