ফুচকা পছন্দ করেন না এমন মানুষ হয়ত খুব কমই আছে। মচমচে এই সুস্বাদু মুখরোচক খাবারটি সন্ধ্যে হোক সকাল, যে কোনও সময়েই খাওয়ার তালিকায় থাকতে পারে সকলের। বিশেষত মেয়েরা তো ফুচকা পেলে আর অন্য কোনও খাবারের দিকেই ঝুঁকবেনই না। মচমচে ফুচকার ভেতর আলুর পুর ভরে তা টক তেঁতুল জলে ডুবিয়ে একেবারে মুখে পুরে দেওয়ার মধ্যে যে তৃপ্তি মেলে, তা আর কোথাও নেই।
ছোটবেলায় আমরা যাতে বেশী ফুচকা না খাই, তার জন্য মা-কাকিমারা আমাদের ভয় দেখানোর জন্য বলতেন যে ফুচকা ও ফুচকার জল নাকি নর্দমার নোংরা জল দিয়ে বানানো হয়। আর সেই শুনে আমরাও বোকা বনে যেতাম। কিন্তু এবার তো সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। ওই যে কথায় বলে না, মা-কাকিমাদের কথা কখনও মিথ্যে হয় না। সেই প্রমাণই পাওয়া গেল হাতেনাতে। নোংরা, অস্বাস্থ্যকর, দূষিত জল ভরা হচ্ছে ফুচকার পাত্রে। তারপর সেই জল দিয়েই বানানো হচ্ছে সকলের প্রিয় ফুচকা। এমনকি, ফুচকার তেঁতুল জলও তৈরি হচ্ছে এই শৌচাগারের জল দিয়েই।
ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের কোলাপুরে। গত শুক্রবার সন্ধ্যেয় এক স্থানীয় ফুচকা বিক্রেতার একটি ভিডিও ধরা পড়ে ক্যামেরায়। এতে দেখা যায়, একটি শৌচাগার থেকে ফুচকার গাড়িতে ও পাত্রতে জল ভরছেন ওই ফুচকা বিক্রেতা। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই চারিদিকে ঢি ঢি পড়ে যায়। প্রচুর লোক জড়ো হন ওই এলাকায়। ঘেরাও করা হয় ওই ফুচকা বিক্রেতাকে, করা হয় মারধর, তার ফুচকার গাড়িটিতেও ভাঙচুর চালায় ক্ষিপ্ত জনতা।
কোলাপুরের রাঙ্কালা লেকের পাশে ফুচকা নিয়ে বস্তেন তিনি। তার ফুচকা গাড়ির নাম ‘মুম্বই কে স্পেশ্যাল পানিপুরি ওয়ালা”। এই এলাকায় বেশ পরিচিত তিনি। তারেই শৌচাগার থেকে জল নিয়ে ফুচকা বানানোর খবর চাউর হতেই রোষে ফেটে পড়ে আমজনতা। ভেঙে ফেলা হয় তার ফুচকার গাড়িটিও। এরপর পুলিশ এসে ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাহলে এরপর থেকে ফুচকা খেতে গেলে এই কথাটি স্মরণে রাখবেন তো?






