Black Lives Matter: নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হল ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নানান আন্দোলনকারীদের নজিরবিহীন হিংসাত্মক আন্দোলনের পরও নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হল ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন। গত বছর মে মাসে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনটি আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছয়। ২০১৩ সালে প্যাট্রিস কুল্লর, অ্যালিসিয়া গার্জা ও ওপাল তোমেটির নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল।

শনিবার ‘ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটার’-এর টুইটার হ্যান্ডেল থেকে এই টুইট করে জানানো হয় যে, “বিশ্বের ইতিহাসে আমরা সবচেয়ে বড় মাপের সামাজিক আন্দোলন করেছি। এই কারণে, আজ আমরা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছি। বিশ্বের মানুষ আমাদের ডাকে জেগে উঠেছে। বর্ণবিদ্বেষী বিচার ও অর্থনৈতিক অবিচার, বর্ণবিদ্বেষ, ও শেতাঙ্গদের বাড়বাড়ন্তের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়িয়েছি”।

https://twitter.com/Blklivesmatter/status/1355311382313447424

‘দ্য গার্ডিয়ান’ থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্টের বিবৃতি উল্লেখ করে ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে সারা বিশ্বব্যাপী পরিকাঠামোতে পরিবর্তন আনতেই ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটার আন্দোলনকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নরওয়ের সাংসদ পিটার এইড।

তাঁর কথায়, এই ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটার আন্দোলন বিশ্বব্যাপী সতর্কতা গড়ে তুলতে ও অন্যান্য দেশকে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাহস জোগাতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পরই এই আন্দোলন চরম রূপ নেয়। পিটারের দাবী, সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটার আন্দোলনে যে সমস্ত কর্মসূচী হয়েছে তা অধিকাংশই শান্তিপূর্ণভাবেই করা হয়েছে। কিন্তু দাঙ্গাবাজ ও পুলিশি হস্তক্ষেপের জন্যই তা হিংস্রতার রূপ নেয় বলে দাবী পিটারের।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫শে মে তারিখে ৪৬ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই বিশালাকার রূপ নেয় এই আন্দোলন। অভিযোগ, ডেরেক চৌভিন নামের এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ আধিকারিক প্রায় ৮ মিনিট ধরে জর্জের গলায় নিজের হাঁটু চেপে ধরে বসে থাকে যতক্ষণ না অচৈতন্য হয়ে পড়ে। জানা যায়, এক দোকানদার ফ্লয়েডের উপর ‘সম্ভাব্য জাল বিল’ পাশ করানোর অভিযোগ তুলে পুলিশে খবর দেন। এরপর ফ্লয়েডকে হ্যানিপিন কাউন্টি মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরই ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটারের পক্ষ থেকে দীর্ঘব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়। মিনিয়াপলিস, যেখানে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়, সেই জায়গা-সহ আমেরিকার নানান জায়গায় শুরু হয় আন্দোলন। দাঙ্গাবাজরা নানা দোকান ভাঙচুর করা থেকে শুরু করে নানান দোকানে লুঠপাঠ, ও তা ধ্বংসও করে দেয়। পুলিশের গাড়িতেও চালানো হয় হামলা, এমনকি অনেক বিল্ডিংও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আরও অন্যান্য খবর