আগামীকাল শনিবার বসন্ত পঞ্চমী। মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে হয় এই উৎসব। এই দিনটিকে সরস্বতী পুজো হিসেবে পালন করা হয়। বলা হয়, এদিন দেবী সরস্বতী মর্ত্যে আবির্ভূতা হন। এই দিনে দেবীর ভক্তরা উপোস রেখে মায়ের পুজো করেন। ছাত্রছাত্রীরা জ্ঞানলাভ ও বিদ্যার্জনের জন্য দেবী সরস্বতীর বন্দনা করে।
৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সরস্বতী পুজোর দিন সূর্য ও বুধ মকর রাশিতে রয়েছে। এই কারণে বুধাদিত্য যোগ তৈরি হবে। এর পাশাপাশি তৈরি হবে কেদার যোগও। এই কারণে বসন্ত পঞ্চমীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। আপনিও যদি এইবার বসন্ত পঞ্চমীর দিন উপোস করার কথা ভাবছেন, তাহলে এই কাজগুলি কথা অবশ্যই মাথায় রাখুন-
১) বসন্ত পঞ্চমীর দিন সারাদিন ধরে উপোস না রাখতে পারলেও অন্তত পুজোর সময় পর্যন্ত উপোস করে থাকা প্রয়োজন। খাওয়া-দাওয়া করে পূজা করবেন না।
২) এদিন ভুলেও কালো কাপড় পরবেন না। কালো রঙ নেতিবাচকতার প্রতিনিধিত্ব করে। সরস্বতী পূজার দিন হলুদ রঙের পোশাক পরাকেই শুভ বলে মনে করা হয়।
৩) পূজার পর প্রসাদ খেয়ে উপোস ভাঙুন। এর পর সাত্ত্বিক খাবার খান। মশলাদার খাবার বা পেঁয়াজ রসুন দিয়ে তৈরি খাবার খাবেন না।
৪) বসন্ত পঞ্চমীর দিন বাড়িতে কোনও সদস্যকে মাংস এবং মদ খাওয়ার অনুমতি দেবেন না। পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার পূর্ণ যত্ন নিন।
৫) এদিন কোনও গরীব, অভাবী বা অসহায় ব্যক্তিকে হয়রান করবেন না। বয়স্কদের সেবা করুন।
৬) বসন্ত পঞ্চমীর দিন কারও সঙ্গে ঝগড়া করবেন না। কিংবা কারও প্রতি খারাপ বা অপবাদ দিবেন না। শান্তিতে মা সরস্বতীর ধ্যান করুন।
৭) কথিত রয়েছে, বসন্ত পঞ্চমীর দিন সরস্বতী দেবী অবশ্যই একবার জিহ্বায় আসেন। তাই ওই দিন সব কিছুই শুভ বলা উচিত। তাই কাউকে কিছু বলবেন না যা সত্য হলে আপনি পরে অনুশোচনা করেন।
৮) এদিন ১০৮ বার সরস্বতীর প্রণাম মন্ত্রটি জপ করা উচিত। এতে তাদের ইচ্ছা পূরণ হবে।
৯) বাক-সিদ্ধির জন্য ছাত্রদের মুখের তালুতে জিহ্বা রেখে মায়ের বীজ মন্ত্র জপ করা উচিত। যদি সম্ভব হয় তাহলে বসন্ত পঞ্চমীর দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিন এই অভ্যাস করুন।
১০) আপনার যদি তোতলানোর সমস্যা থাকলে বসন্ত পঞ্চমীর দিন একটি বাঁশি নিয়ে তার গর্তে মধু ভরে মোম দিয়ে গর্ত বন্ধ করে বাঁশিটি মাটিতে পুঁতে দিন।






