একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর শিশির অধিকারী বলেছিলেন যে রাস্তা থেকেই উঠেছি, আবার রাস্তায় নেমেই লড়াই করব। কোনও ভয়ের কিছু নেই। এরপর বেশ কয়েকমাস কেটে গিয়েছে। সামনেই পুরসভা নির্বাচন। আর এবার কাঁথি পুরসভা নিজেদের আয়ত্তে আনার জন্য সবরকম প্রয়াস চালাচ্ছে বিজেপি।
তবে সেখানে বিজেপিতে ভাঙনও দেখা দিয়েছে বটে। এমন টালমাটাল অবস্থায় বিজেপি সূত্রে খবর, শিশির অধিকারীকে পুরসভার চেয়ারম্যান পদের মুখ করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। এও জানা গিয়েছে, শিশির অধিকারী যদি প্রার্থী না হন, সেক্ষেত্রে সৌমেন্দু অধিকারীর কথা ভাবা হবে।
বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী লোকসভা নির্বাচনে শিশির অধিকারীকে টিকিট দেবে না তৃণমূল। যদিও তিনি এখনও তৃণমূলেরই সাংসদ রয়েছেন। তবে তাঁর সেই পদ খারিজ করার জন্য স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাই শিশিরবাবুর সাংসদ পদ খারিজের আগে যদি তাঁকে পুরসভা নির্বাচনে জিতিয়ে আনা হয়, তাহলে মান বাঁচে আর কী! আর কাঁথি পুরসভা শিশিরবাবুর নিজের হাতের তালুর মতো চেনা।
তবে বিজেপির তরফে এখনও এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। আবার এও শোনা যাচ্ছে যে অধিকারীদের হাতে পুরসভা তুলে দিতে শুভেন্দু অধিকারীর দাদা কৃষ্ণেন্দু অধিকারীকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা হতে পারে। এখানে অধিকারীদের জেরে কোণঠাসা হয়েছেন বিজেপির পুরনো নেতারা। এখন কাঁথিয়ে শিশিরবাবুকে নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই কাঁথিতে দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষ চ্যালেঞ্জ করেছিলেন যে পুরসভা নির্বাচনে অধিকারীরা গোহারা হারবে। এবার কাঁথি–সহ রাজ্যের ১০৮টি পুরসভার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি রাজ্যের পুরসভাগুলিতে ভোট রয়েছে। অধিকারী গড়কে কী নিজের দিকে টানতে পারবে বিজেপি নাকি তৃণমূলই ফের দখল করবে, এখন এটাই দেখার।





