আজ বৃহস্পতিবার, ২১শে জুলাই। এদিন গোটা শহরে যেন বড়সড় কোনও উৎসব হচ্ছে। এদিন রয়েছে তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশ। গত দু’বছর ধরে এই ২১শে জুলাই পালন করা হয়নি করোনা অতিমারির কারণে। তবে এই বছর তা হচ্ছে। এর ফলে এই বছর যে তৃণমূলের এই সমাবেশে বেলাগাম ভিড় হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে তো বটেই, ভিনরাজ্য থেকেও এদিন এই সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, অসম, গোয়া, মেঘালয়, ত্রিপুরা থেকেও এদিন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা যোগ দেবেন সমাবেশে। এদিনের এই সমাবেশের জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি রয়েছে শহরে।
এই ২১শে জুলাইয়ের আগের দিনই ঘটে গেল এক ঘটনা। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন থেকে শিয়ালদহমুখী ট্রেনের জন্য সংরক্ষিত টিকিট থাকা সত্ত্বেও ট্রেনে উঠতে পারলেন না যাত্রীরা। ছাড়তে হল ট্রেন। কিন্তু কেন এমন ঘটল? যাত্রীদের কথায়, গতকাল, বুধবার সন্ধ্যের দিকে পদাতিক এক্সপ্রেসে ধরার জন্য জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন তারা। সংরক্ষিত টিকিট ছিল তাদের কাছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই ট্রেন ছেড়ে দিতে হল তাদের।
যাত্রীদের কথা অনুযায়ী, এদিন জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন থেকে পদাতিক এক্সপ্রেসের সংরক্ষিত কামরায় উঠতে গিয়েই তারা দেখেন যে কামরা লোকজনে ঠাসা। বসার তো দূর, দাঁড়ানোরও জায়গা নেই বললে চলে। যেসমস্ত যাত্রীদের কাছে সংরক্ষিত টিকিট ছিল, তারা ওই কামরায় উঠতে গেলে তাদের সিটে বসতে দেওয়া হয় না। এমনকি, তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে কিছু যাত্রীর অভিযোগ।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, তারা নিজেদের আসন নিতে গেলে তাদের কামরায় থাকা লোকজন বলেন ‘আমরা তৃণমূলের লোক, কী করবে করে নাও। পুলিশকে বলতে পারো’। এই যাত্রীদের মধ্যেই ছিলেন মহিলা, শিশু সকলেই। ওই মহিলা যাত্রীর কথায়, কামরায় তৃণমূলের লোকজন ছিল। তারা হয়ত ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশে যাচ্ছেন। তিনি জানান যে এত ভিড় যে তিনি বাচ্চা নিয়ে উঠতে পারেন নি। তারা এও জানান যে কামরায় থাকা লোকজন কামরার একদিকের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, অন্য একটি দরজায় খুব ঠেলাঠেলি হচ্ছিল যে ওঠা সম্ভব ছিল না। তাদের কাছে সংরক্ষিত টিকিট থাকা সত্ত্বেও এই হেনস্থার মুখে পড়তে হল তাদের। মহিলার কথায়, কামরায় থাকা লোকজনের কাছে টিকিট রয়েছে বলে মনে হয় না। জোর করে কামরায় উঠে বসেছেন তারা।
যাত্রীরা এই নিয়ে রেলপুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে, রেলপুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। রেলপুলিশ জানায় যে যাত্রীরা যাতে টিকিট সংরক্ষকের কাছে অভিযোগ জানান। এই বিষয়ে টিকিট সংরক্ষক জানান যে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। এই বিষয়টি তিনি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জানিয়েছেন। এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে আদৌ কতটা কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে সন্দিহান যাত্রীরা।






