জন্মাষ্টমী অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। এদিন এই ঘটনার স্মরণে অনেকেই পুজো-পার্বণ, ভজন-কীর্তন করে থাকেন। অনেকে আবার এদিন ব্রত করেন। বাড়িতে গোপাল পুজো করেন। প্রতি বছরের মতো এবছরও ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মাষ্টমী পালন করা হচ্ছে। আজ জন্মাষ্টমী।
জন্মাষ্টমীতে অনেকেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যবেলা অর্থাৎ গোপালকে সন্তানরূপে পুজো করেন। পুজো কী কী নিবেদন করতে হবে, কোন সামগ্রী অবশ্যই রাখা উচিত, তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেকেই। গোপাল যাতে প্রসন্ন হন, তার জন্য সকলেই নানান সামগ্রী অর্পণ করতে চান। তবে কিছু উপকরণ যা পুজোতে অবশ্যম্ভাবী, সেগুলি কী-
বাঁশি
বাঁশির কথা উঠলেই গোটা ভূ-ভারতে একজনের কথাই মনে আসে। তিনি হলেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। তাই শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি ছাড়া তাঁর পুজো অসম্পূর্ণ। পুজোর অনেক উপকরণের মধ্যে বাঁশির কথা আমরা প্রায়শই ভুলে যাই। কিন্তু তা করলে একেবারেই চলবে না।
তুলসী ডাল
যে কোনও পুজোয় তুলসী এমনিতেও লাগে। কৃষ্ণ পুজোয় তুলসী তো অপরিহার্য। জন্মাষ্টমী পুজোয় তুলসী পাতা অবশ্যই নিবেদন করতে হয়। তুলসী শ্রীকৃষ্ণের খুবই প্রিয়। তুলসীপত্র, তুলসীমালা এবং তুলসী ডাল জোগাড় করে রাখতে হয়।
ময়ূরপুচ্ছ
ময়ূরপুচ্ছও এমন একটি উপকরণ যা কৃষ্ণপুজোর নানান প্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড়ে এটির কথা ভুলেই যাই আমরা। অথচ সামান্য একটি ময়ূরপুচ্ছ পুজোর নান্দনিকতাটা অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। ভক্তের মনেও অনাবিল আনন্দের সঞ্চার করে। কৃষ্ণ এটিকে নিজের মুকুটশীর্ষে ব্যবহার করতেন।
মনে করা হয়, জন্মাষ্টমীর পুজোয় যদি তুলসী নিবেদন করা হয়, তাহলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রসন্ন হন। কৃষ্ণকে বাঁশি উপহার দিলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আশীর্বাদ করেন। আর ময়ূরপুচ্ছ ভগবানকে আনন্দ দেয়। ফলে ভগবানও ভক্তকে আনন্দ দেয়।
এগুলি ছাড়াও গোপাল পুজোতে আরও কিছু সামগ্রী খুবই প্রয়োজনীয়। এই জিনিসগুলি কমবেশি সব পুজোতেই লাগে। এগুলি হল- ধূপ, কর্পূর, চন্দন, সিঁদুর, পানসুপারি, যজ্ঞোপবীত, গঙ্গাজল, মধু, চিনি, ঘি, দই, দুধ, ফল, মিষ্টান্ন, পঞ্চপল্লব, পঞ্চামৃত, প্রদীপ। শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি, গোপালের মূর্তি বা ছবি, সঙ্গে গোপালের পোশাক-গয়না– এসব তো অপরিহার্য। এদিন ভগবত গীতা পাঠ করা উচিত।






