ভারী শরীর তাঁর। এই নিয়ে দলে থাকাকালীন দলের কেউ কেউ তাঁর পিছনে ঠাট্ট-ইয়ার্কি (taunt) করতেন। তবে এবার জেলের মধ্যেও নিস্তার নেই। বিশাল শরীর নিয়ে পড়েছেন জ্বালায়। জেলের ভিতরেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) শরীর নিয়ে চলছে মস্করা-টিটকিরি দেওয়া। ছিঁচকে চোরদের (thieves) এমন জ্বালায় এখন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর প্রাণ ওষ্ঠাগত।
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এমনিতে নিজের সেল থেকে খুব একটা বের হন না তিনি। সেভাবে কথাও বলেন না অন্য বন্দিদের সঙ্গে। কিন্তু সেলের ভিতরেও শান্তি আর কোথায়!
সেলের ভিতরে যখন হয়ত বসে রয়েছেন বা বিশ্রাম নিচ্ছেন বা এদিক-ওদিক একটু পায়চারি করছেন, তখনই বাইরে থেকে ভেসে আসছে নানান টিটকিরি। শোনা যাচ্ছে, কেউ ডাকছে ‘মোটু টুকি, মোটু টুকি’, এভাবে। গত কয়েকদিন ধরে জেলের ভিতর এই ধরণের ঘটনায় তিতিবিরক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী। বেশ চটেছেন তিনি এই ঘটনায়। জেল কর্তৃপক্ষকে এই নিয়ে অভিযোগও করেছেন পার্থ।
পার্থর সঙ্গে কারা এমন ঠাট্টা-মস্করা করছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করে জেল কর্তৃপক্ষ। জানা যায় যে পার্থর আশেপাশের সেলে থাকা দুই ছিঁচকে চোরই পার্থকে ‘মোটা মোটা’ বলে জ্বালাচ্ছে। ওই দু’জনকে সেই কারণে পার্থর সেলের থেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার প্রেসিডেন্সি জেলে ঘটে যায় এক নাটকীয় কাণ্ড। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রেসিডেন্সি জেলের পয়লা বাইশ ওয়ার্ডের ২ নম্বর সেলে রয়েছেন। আর মুসা থাকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। গত শনিবার বিকেলে বন্দিদের লক আপে ঢোকানো হচ্ছিল। সেদিন বন্দিদের সেলে ঢোকানোর পরও পার্থ জানান যে তিনি নিজস্ব ভঙ্গিমায় আর একটু উঠোনে হাঁটবেন। দুই বন্দির ক্ষেত্রে দু’রকম নিয়ম হবে কেন হবে? এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্ষুব্ধ মুসা। জানা গিয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করতে শুরু করে মুসা।
আর এরপরই এক চরম পদক্ষেপ নেয় ক্ষুব্ধ মুসা। হঠাৎ করেই মল ভর্তি মগ হাতে তুলে নিয়ে তা ছুঁড়ে মারে পার্থর দিকে। এই মল আক্রমণ থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি সরে যেতে চান পার্থ। তাড়াতাড়ি সরে যেতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়ে যান তিনি। এর জেরে তাঁর থুতনি চোট লাগে, ঠোঁট ফেটে যায় বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন কারারক্ষীরা। জেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। গতকাল, বুধবার এসএসকেএম থেকে একদল চিকিৎসক যান প্রেসিডেন্সি জেলে তাঁকে পরীক্ষা করতে।





