‘বেশি টাকা আছে বলেই ছবি করছেন, প্রযোজক কোথা থেকে ইনকাম করছেন, সেটা কেউ দেখে’? কুন্তলের টলি-যোগ নিয়ে অভিনেতাদের পাশে দাঁড়ালেন শতাব্দী

নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment scam) নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য ও রাজনীতি উত্তাল হয়ে রয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়িয়েছে টলিউডেরও (Tollywood)। একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী, মডেলের যোগ মিলছে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে। সেই কারণে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার স্ক্যানারে রয়েছে টলি জগত। এসবের মধ্যেই এবার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় (Shatabdi Roy)।

রুপোলী পর্দায় তাঁর অভিজ্ঞতা অনেকদিনের। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বললেন, “কেউ তো আর স্থানীয় এসপি বা বিডিও-র সার্টিফিকেট দেখে কারও সঙ্গে মেলামেশা করেন না। তবে যতটা ঝামেলা এড়িয়ে চলা যায় ততই ভাল। এটা একটা পেশা, তাকে পেশাগতভাবেই নিতে হবে”।

অভিনয় জগতের থেকে তিনি পা রেখেছিলেন রাজনীতির ময়দানে। এখন আর সেভাবে অভিনয় করতে দেখা যায় না তাঁকে। বরং রাজনৈতিক ময়দানেই তাঁর নিত্য আনাগোনা। আর এই রাজনৈতিক কারণেই মাঝেমধ্যে খবরের শিরোনামেও উঠে আসেন শতাব্দী রায়।, সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কিছু লোকজনের সঙ্গে টলিউডের যোগের ফলে নাম জড়িয়েছে কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীর। সেই প্রসঙ্গে শতাব্দীর মত, “সব সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা জেনে সব করেন তেমন তো নয়”।

অভিযোগ করেই তিনি বলেন, “যারা বড় বড় চ্যানেলে বসে অভিনেতা অভিনেত্রীদের বড় বড় জ্ঞান দেয় যে সব জানা উচিত, তাদের জিজ্ঞাসা করি, একটি ছবিতে কেউ সই করলে তাঁর প্রোডিউসারের ইনকাম সার্টিফিকেট দেখেন নাকি? কোথা থেকে ইনকাম করে তিনি ছবি করছেন দেখেন? নাকি সেটা দেখা আমাদের কাজ? সাধারণত প্রোডিউসার কী করেন এটা জানা হয়। তারপরেই কাজ শুরু হয়। প্রমাণ দিয়ে, আধার কার্ড দিয়ে, পাড়ায় মুদির দোকানে তার ধার আছে কিনা, সেসব জেনে কেউ ছবি করে না। তাই অভিনেতা অভিনেত্রীরা তাদের কাজ করতে যায়, সেটাই তারা করে।অনেক সময় কোনও অভিযোগ থাকলে তখনই জানা যায় না। পরে জানা যায়”।

টলিউডে অবৈধ টাকার বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শতাব্দী বলেন, “কেউ তো মাইনের টাকা বাঁচিয়ে ছবি করতে আসে না। হলিউড, বলিউড, টলিউডে একটাই নিয়ম। ব্যবসার টাকা লাভের আশায় বিনিয়োগ হয়। যাদের কাছে বেশি টাকা আছে তারাই ছবি করতে আসে”।

নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কীভাবে এসব বিচার করবেন? শতাব্দীর কথায়, “এমন নয় যে বলব সাবধানে চলো। সে কথা বলার মানে কী? সে তাঁর নিজস্ব কোনও অনুষ্ঠানে যাবে না। সেখানে গিয়ে কারও সঙ্গে ছবি তুলবে না। সেখানে গিয়ে কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব হলে তাঁর বাড়িতে নিমন্ত্রণ করলে যাবে না। তাহলে তো ঠগ বাছতে গাঁ উজার হয়ে যাবে। এটা একটা পেশা। ভালো লোকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রাখতে হবে”।

RELATED Articles