‘বাংলার অবস্থা খারাপ’, ক্ষোভ প্রকাশ করে, নববর্ষে তরুণ প্রজন্মকে পথে নামার আহ্বান রাজ্যপাল আরএন রবির! পাল্টা মমতার তোপ, ‘লাটসাহেবই অশান্তির কারণ!’

পয়লা বৈশাখের আবহে যখন গোটা বাংলা উৎসবে মেতেছে, তখনই রাজ্য রাজনীতিতে ধীরে ধীরে তৈরি হল এক নতুন বিতর্কের আবহ। শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই উঠে এল রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। এই আবহেই রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

লোক ভবনে আয়োজিত নববর্ষের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আরএন রবি তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, পরিবর্তন বাইরে থেকে আসবে না এটি তৈরি করতে হবে নিজেদেরই। রাজ্যের গৌরব পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব তরুণদের কাঁধে তুলে দিয়ে তিনি ইতিবাচক মানসিকতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর জোর দেন। তাঁর কথায়, দেশের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গকেও এগোতে হবে।

বক্তৃতার একাংশে রাজ্যের অর্থনৈতিক অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাও টানেন রাজ্যপাল। তাঁর দাবি, এক সময় দেশের অর্থনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬০-এর দশকে জিডিপির বড় অংশই আসত এই রাজ্য থেকে। কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। মাথাপিছু আয়, শিল্পের সংখ্যা এবং শিক্ষাক্ষেত্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজ্য অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

রাজ্যের পরিস্থিতিকে ‘খারাপ’ বলে উল্লেখ করায় শুরু হয় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। যদিও সরাসরি নাম নেননি, উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া সুরে জবাব দেন। তিনি ‘লাটসাহেব’ উল্লেখ করে বলেন, রাজ্যে অশান্তির জন্য বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিই দায়ী এবং আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি রাজ্যের হাতে নেই বলেও ইঙ্গিত করেন।

মার্চ মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সম্পর্ক অনেকটাই মসৃণ ছিল। এমনকি সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়েছিল দুই পক্ষের। তবে নববর্ষের দিনেই এই মন্তব্য ঘিরে যে নতুন করে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে। আগামী দিনে নবান্ন ও রাজভবনের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

RELATED Articles