মিড ডে মিলের খাবারে পোকা, আরশোলা, টিকটিকি, মরা সাপ, এসব মেলা যেন এখন রোজকার ঘটনা হয়ে গিয়েছে। কোনও না কোনও স্কুল বা আইসিডিএস সেন্টার থেকে এমন অভিযোগ আসতেই থাকছে আকছার। ফের ঘটল এমন ঘটনা। মিড ডে মিলের খিচুড়িতে মিলল টিকটিকি। আর সেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও ১২ জন শিশু।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের ক্যাকটাতে। সূত্রের খবর, এদিন ওই এলাকার গ্রামীন এক আইসিডিএস সেন্টারে প্রতিদিনের মতোই প্রায় ৭০ জনের জন্য রান্না করা হয়। কেউ সেই খাবার খায়, কেউ আবার খাবার নিয়ে বাড়ি চলে যায়। খাবার খাওয়ার খানিকক্ষণ পর থেকেই একের পর এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরাই তাদের জানুবসান রুরাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে ১২ জন শিশু ও একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইসিডিএস সেন্টারের কর্মী আলপনা মাইতি-সহ স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে ওই আইসিডিএস সেন্টারের পরিকাঠামো খুবই খারাপ। সেন্টারের উপর কোনও আচ্ছাদন নেই। রান্নাও ঠিক করে হয় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অনেকবার জানানো হয়েছে কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। স্থানীয়দের অনুমান, সেন্টারের উপরে কোনও আচ্ছাদন না থাকায় রান্নার সময় টিকটিকি পড়েছে খিচুড়িতে। সেই খাবার খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েছে শিশুরা।
এদিকে আবার স্থানীয়দের এই অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাজেশ হাজেরা। তিনি এই ঘটনার জন্য পাল্টা আইসিডিএস কর্মী আলপনা মাইতিকে দায়ী করেন। তাঁর সাফ দাবী, আলপনা মাইতির গাফিলতির ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর এলাকার বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পঞ্চায়েত প্রধান, ব্লক আইসিডিএস আধিকারিক-সহ পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা অসুস্থ শিশুদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেন। হাসপাতালেও গিয়েছিলেন তারা।





