রয়েছে চার সন্তান, তাও বৃদ্ধার ঠাঁই একচিলতে কুঁড়েঘরে, ‘সম্পত্তি পাইনি তাই দেখি না’, জানাল বড় ছেলে

চার সন্তান বৃদ্ধার। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। নাতি-নাতনি, ছেলে-বৌমা নিয়ে এক ভরপুর সংসার হওয়ার কথা তাঁর। কিন্তু সেসব ছেড়ে এখন তাঁর ঠাঁই হয়েছে একচিলতে কুঁড়েঘর। কারণ ছেলেমেয়েরা তাঁকে নিজেদের বাড়িতে তুলতে নারাজ। এভাবেই গত ১০ বছর ধরে জীবনযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন ৯০ বছরের বৃদ্ধা।

কোথায় ঘটেছে ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার সোনাখালি গ্রামে। বৃদ্ধার নাম নিহারীবালা মাল। প্রতিবেশীদের কথায়, বৃদ্ধার ছেলেবউমারাই তাঁকে ঘরছাড়া করেছে। ভিটের নীচে একটি কুঁড়েঘরে পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোনওরকমে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। গ্রামে সালিশি সভা, পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, কোনও কিছুতেই কোনও লাভ হয়নি বলে খবর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অনেকদিন আগেই বৃদ্ধার স্বামী মারা গিয়েছেন। বৃদ্ধার এমন পরিস্থিতি দেখে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিজের সম্পত্তির এক অংশ বিক্রি করে সেই টাকা দিয়েই কোনও মতে নিজের খরচা চালান বৃদ্ধা। কোনও সরকারি সাহায্যও পান না তিনি। প্রতিবেশীরাই বৃদ্ধার দেখাশোনার জন্য একজন কাজের মাসি জোগাড় করে দিয়েছেন।

ছেলেরা থাকা সত্ত্বেও কেন এভাবে থাকতে হচ্ছে বৃদ্ধাকে?

বৃদ্ধার বড় ছেলে নরোত্তম মাল আমতা আমতা করে বলেন, “আমি মায়ের কোনও সম্পত্তির ভাগ পাইনি। তাই মাকে দেখাশোনা করি না”। তিনি আরও বলেন, “কেন ছোট ভাই তো দেখাশোনা করত এখন কী হল”? একই বিষয়ে ছোট ছেলে উত্তম মালের পরিবারের কাছে জানতে চাওয়া হলে প্রথমে মুখ খুলতে চায়নি কেউ। পরে ছোট বৌমা ঝর্না মাল বলেন, “আমার শাশুড়ি মা আমাদের কাছে থাকতে চান না। সে নিজের ইচ্ছায় একাই থাকেন”।

প্রতিবেশী সূত্রে খবর, বৃদ্ধার সম্পত্তি বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছিলেন, তার থেকে ৩৬হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে পড়ে ছিল। বৃদ্ধার ছোট ছেলে সেই টাকাটিও তুলে নিয়েছে। এর বদলে কাজের মাসি মাঝেমধ্যে না আসলে খেয়াল খুশি মতো ছোট বউমা দেখাশোনা করে ওই বৃদ্ধার।

এই কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও একটি কুঁড়েঘরের মধ্যে একাই থাকতে হচ্ছে বৃদ্ধাকে। তবুও ছেলেরা কেউই নিজেদের পাকা বাড়িতে নিয়ে যেতে চান না মাকে। দুই ছেলেই সোনার কাজ করে, দুজনেরই স্বচ্ছল অবস্থা। কিন্তু তাও তাদের মায়ের আজ এই পরিণতি।

আরও অন্যান্য খবর