বেশ কিছুদিন ধরেই ইন্ডিয়া জোট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চার শেষ নেই। জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেন অনিশ্চিত নানান নেতারাই। এরই মধ্যে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তাঁর কারোর সঙ্গে কনপ সম্পর্ক নেই। বাংলায় তিনি একাই লড়বেন ভোটে। অবশেষে ‘একলা চলো রে’ নীতিই অবলম্বন করলেন মমতা।
‘ভারত জোড় ন্যায় যাত্রা’-য় রাজ্যে আসছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। আগামী ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি মমতা থাকবেন উত্তরবঙ্গে। তিনি জানান যে রাহুলের এই রাজ্যে ন্যায় যাত্রার আসার কথা তাঁকে জানায়নি কংগ্রেস। এর আগে তিনি জোটের শরিক সিপিএমের ভূমিকা নিয়ে তো প্রশ্ন তুলেছিলেনই। এবার কটাক্ষ শানালেন কংগ্রেসকেও। রাহুলের ন্যায় যাত্রা নিয়ে তাঁকে কিছু না জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “জোটের শরিক হিসেবে সৌজন্যের খাতিরেও তো জানাতে পারত, দিদি আপনার রাজ্যে যাচ্ছি। না জানায়নি”।
এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই আবার রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক খুবই ভালো। বলেছিলেন, “আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও দলের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভালো সম্পর্ক। ছোটখাটো বিষয় থাকে। তবে এখানে (অসমে) বসে এনিয়ে কিছু বলার নেই। তবে সমস্যা যাই থাক, সেসব মিটে যাবে”। কিন্তু তাও গললেন না মমতা।
এদিন মমতা বলেন, “যে দিন থেকে আমাদের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, সে দিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা একা লড়ব। আমাদের সঙ্গে বাংলার ব্যাপারে কোনও সম্পর্ক নেই। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কী করব, না করব সে ব্যাপারে ভোটের পর সিদ্ধান্ত নেব। আমরা নিরপেক্ষ দল। আমরা বিজেপিকে হারানোর জন্য যা করার করব”।
এদিন কংগ্রেসকে বার্তা দিয়ে মমতা বলেন,”জোটটা কারও একার নয়। ৩০০ আসনে ওরা একাই লড়ুক। বাকি আসনে আঞ্চলিক দলগুলি লড়বে। সেখানে হস্তক্ষেপ করলে বুঝে নেব”।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আসন ভাগ বাটোয়ারা নিয়েও মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর কেন্দ্র বহরমপুরও ছাড়বে না তৃণমূল। মমতা বলেন, “কংগ্রেসকে আমরা ২টো আসন ছাড়ব। ওরা ১০টা-১২টা বলছে। তবে আগেই এ নিয়ে কথা হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি তেমন হলে একা লড়ারও প্রস্তুতি থাকবে”।






