ক্যান্সার(Cancer) শব্দটি শুনলে যেখানে অধিকাংশ মানুষের পথ চলা থেমে যায় সেখানে এই রোগ সাথে নিয়ে অগণিত মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন অভিনেতা চন্দন সেন (Chandan Sen)। ক্যান্সারের তীব্র যন্ত্রণায় কষ্ট পেলেও অসাধারণ অভিনয় করে চরিত্রতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। সকল কষ্ট একা নীরবে সহ্য করে গিয়ে অভিনয়ে প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শরীরে ক্যানসারের যন্ত্রণা সহ্য করে ছোট পর্দা, বড় পর্দা এবং থিয়েটারে কাজ করে চলেছেন তিনি। ২০১০ এ প্রথম চন্দন সেন জানতে পারেন, তিনি ফলিকুলার লিম্ফোমাতে আক্রান্ত। তার ঘাড়ের শিরঃবোনটি ক্যান্সারের প্রভাবে ক্ষয়ে গেছে এখন আর অপারেশন ছাড়া গতি নেই।
কিন্তু অপারেশন হলে তার ভয়েস বক্সটি বাদ যাবে আর কখনও অভিনয় করতে পারবেন না তিনি। একজন শিল্পীর কন্ঠ চলে যাওয়ার থেকে বড় আঘাত আর কী হতে পারে? সেই সময় চিকিৎসককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন চন্দন সেন বড়জোড় আর ১০ বছর বাঁচবেন। সেই থেকেই অভিনেতার বেঁচে থাকার লড়াই শুরু।
দিনের পর দিন কেমোথেরাপি চলতে থাকে তার। চিকিৎসার ব্যয়বহুল খরচ তার একার পক্ষে সামলানো কঠিন ছিল। তাই তার বন্ধু থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। একই সাথে এই লড়াইয়ে তার সঙ্গ দিয়েছিল জীবনসঙ্গিনী ঋতুপর্ণা সেন। চন্দন সেন ক্যান্সারে আক্রান্ত জানার পরেও তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন ঋতুপর্ণা।
নিজের স্ত্রী ও আশেপাশের সকলকে পাশে পেয়ে এবং বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছা শক্তি এই লড়াইতে তাকে ১৪ বছর টিকিয়ে রেখেছে। দিনে ১০ ঘন্টা কেমোথেরাপি নিয়েও তিনি সন্ধ্যার সময় অবলীলায় অভিনয় করে যেতে পারেন, দিতে পারেন নাটকের নির্দেশনাও। চন্দন সেন মনে করেন শরীরকে বেশি পাত্তা দিলেই সেটা আরও বেশি চেপে বসবে তাই তিনি অক্ষমতা অনিবার্য জেনেও কাজ করেন।
অভিনেতা চন্দন সেনের জীবনকাহিনীর উপর ভিত্তি করেই নন্দিতা শিবপ্রসাদ জুটি বানিয়ে ফেলেন কন্ঠ নামের সিনেমাটি। যেখানে শিবপ্রসাদ নিজেই চন্দন সেনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এই ছবিতে জীবনশক্তিতে ভরপুর একজন ক্যানসার যোদ্ধার বাস্তব কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।






