‘সব অন্ধকার, আর দেখতে পাব কী না জানি না’, নবান্ন অভিযানে চোখে ইটের আঘাত, চোখের মণি ফেটে‌ দৃষ্টি হারালেন কলকাতা পুলিশ সার্জেন্ট!

আর জি কর কাণ্ডে (R G Kar incident) রাজ্য তথা দেশ রীতিমতো ক্ষোভে ফুটছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় হয়ে গেলেও এখন‌ও অবধি সঞ্জয় রায়ের বাইরে আর কাউকে ধরা যায় না। রাজ্য পুলিশের (west bengal police) হাত থেকে তদন্তভার সিবিআই (CBI) এর হাতে গিয়ে পৌঁছালেও এখন‌ও অবধি সেভাবে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যে কারণে প্রতি মুহূর্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসকরা। এই ইস্যুতেই গত ২৭শে আগস্ট ছাত্র যুবক সংগঠন নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আর সেখানে দৃষ্টিশক্তি হারালেন এক পুলিশ কর্মী।

গত ২৭শে আগস্ট নবান্ন অভিযান হয়। প্রচুর আন্দোলনকারী নবান্নে গিয়ে পৌঁছন এবং সেখানকার পুলিশরা তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি জানা যাচ্ছে যে নবান্ন সামলাতে গিয়ে কলকাতা পুলিশের একজন সার্জেন্ট দৃষ্টিশক্তি হারালেন।বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে ছোঁড়া আধলা ইটের টুকরোর আঘাতে তার চোখের মণি ফেটে যায়।

কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট দেবাশিস চক্রবর্তী গতকাল নবান্ন সামলাতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ভিড়ের মধ্যে থেকে ছুটে আসা ইট তার বাঁ চোখে এসে লাগে। এরপর সময় নষ্ট না করে দ্রুত তাকে এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা করা যায় নি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন ওই সার্জেন্ট। গতকাল ছাত্রসমাজের নবান্ন অভিযানের সময় পুলিশের দিকে আন্দোলনকারীরা ইট ছুঁড়তে থাকেন।

সেই ইটের আঘাত গিয়ে পুলিশ সার্জেন্ট দেবাশিস চক্রবর্তীর বাঁ চোখে। তার চোখের মনি ফেটে প্রচুর রক্তপাত হতে শুরু করে! এরপর তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনি আর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন না। চার ঘণ্টা ধরে তার অপারেশন করা হয় কিন্তু ব্যর্থ হয় সেই অপারেশন। ৩৭ বছর বয়সে নবান্ন অভিযান ঠেকাতে গিয়ে তিনি বাম চোখের দৃষ্টি শক্তি হারান।

গতকাল একটি সাংবাদিক সম্মেলনে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, নবান্ন অভিযানের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে কলকাতা পুলিশের ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতিম সরকার বলেন, “রক্তাক্ত ও আহত হয়েও পুলিশ চূড়ান্ত ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে। আমাদের ১১ থেকে ১২ জন সহকর্মী আহত হয়েছেন। তবু পুলিশ সংযত থেকেছে।”

আরও পড়ুনঃ চিকিৎসক সমাজে একঘরে সন্দীপ, IMA থেকে সাসপেন্ড করা হল আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষকে

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, স্বাধীনতার আগের দিন অর্থাৎ গত ১৪ অগস্ট রাতে‌ও যখন আর জি কর কাণ্ডের ন্যায় বিচার চেয়ে মহিলারা রাত দখলের কর্মসূচি করেন সেইসময়েও বাগুইআটিতে কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ কর্মী এইভাবেই আহত হন। শম্পা প্রামাণিক নামের ঐ মহিলা কনস্টেবল বাগুইআটিতে মিছিল চলাকালীন কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন সেই সময় মিছিলের মধ্যে থেকে ছোড়া ইটের আঘাতে চোখ ও মুখে ভয়ংকরভাবে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি।

Sangita Chatterjee

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর