সুশান্তকে উৎসর্গ করা শেষ পোস্ট, তারপরই ম’র্মান্তিক পরিণতি! অভিনেত্রীর মৃ’ত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য, কেন এত অভিনেতার মৃ’ত্যুবার্ষিকীকে বেছে নিলেন নিজের মৃ’ত্যুদিন হিসেবে? কী ছিল দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক?

মুম্বইয়ের ছোটপর্দার পরিচিত মুখ সঞ্চিতা উগলের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। অভিনয়ের দক্ষতা এবং প্রাণবন্ত উপস্থিতির জন্য দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। তবে হাসিখুশি মুখের আড়ালে যে গভীর মানসিক যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল, তা অনেকেরই অজানা ছিল। গত ১৪ জুন নিজের বাড়ি থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র ২২ বছর বয়সে এই তরুণ অভিনেত্রীর মৃত্যু সহকর্মী, বন্ধু এবং অনুরাগীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, এর পেছনে মানসিক অবসাদ ও কর্মক্ষেত্রের চাপের বিষয়টি সামনে আসছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। সঞ্চিতা নিজের ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন। দীর্ঘ সময় কোনও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ১৫ জুন তাঁর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর অভিনেত্রীর বয়স নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পুলিশ জানিয়েছে, সঞ্চিতার বয়স ছিল ২২ বছর। এদিকে তাঁর মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে। সঞ্চিতার ভাই অবিনাশ দাবি করেছেন, মৃত্যুর আগে করা শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালের ১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যু হয়েছিল। আর একই তারিখে সঞ্চিতার এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারও গভীরভাবে চিন্তিত।

অবিনাশ বিনোদন জগতের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কাজের অনিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ এবং সিনিয়রদের কাছ থেকে নিয়মিত অপমানের মুখে পড়তে হয়েছিল সঞ্চিতাকে। তাঁর কথায়, “এই ইন্ডাস্ট্রি অত্যন্ত নোংরা এবং বিষাক্ত। কাজের অভাব, কাজের জায়গায় মানসিক চাপ এবং সিনিয়রদের থেকে ক্রমাগত অপমান সহ্য করতে না পেরেই ও এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।” পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের মানসিক চাপে ছিলেন অভিনেত্রী। সেই পরিস্থিতিই তাঁর জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ মিঠুনের বিদেশি জামাই!জন্মদিনের আগেই সুখবর, বাগ্‌দান সারলেন মিঠুন চক্রবর্তীর মেয়ে দিশানী, মন দিলেন ভিন দেশী ছেলেকে

সঞ্চিতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহ অভিনেত্রী মেঘা শর্মাও তাঁর মানসিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন। মেঘার দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই তীব্র মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছিলেন সঞ্চিতা। শারীরিক অসুস্থতার কারণেও তাঁর চিকিৎসা চলছিল। মেঘা বলেন, “ও মাঝে মাঝেই জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা বলত। আমরা সবসময় ওকে ইতিবাচক থাকার পরামর্শ দিতাম।” তিনি আরও জানান, মাত্র ১০ দিন আগেও একটি অডিশনে একসঙ্গে গিয়েছিলেন তাঁরা এবং তখন সঞ্চিতা ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু পরে হঠাৎ ফোন বন্ধ করে দেন অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুর পেছনে শুধুই মানসিক অবসাদ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে মুম্বই পুলিশ। এই ঘটনা আবারও গ্ল্যামার জগতের অন্দরের চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

আরও অন্যান্য খবর