ভাইরাল ভিডিও ‘বাটন’-এর পরেই গ্রেফতার, জামিনে মুক্তির পর ‘ফিরে আসা’ দিয়ে প্রত্যাবর্তন “ননসেন” শমীক অধিকারীর! শাসকবিরোধী কনটেন্টের জেরে কি একঘরে হয়ে পড়লেন নেট-প্রভাবী? বন্ধু-ঘনিষ্ঠদের দূরত্বে আজ ভরসা শুধুই পরিবার? নতুন ভিডিওতে কোন কঠিন সামাজিক সত্য তুলে ধরলেন তিনি?

কয়েক মাস আগেও সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ শমীক অধিকারী ওরফে ‘ননসেন’ ছিলেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। হঠাৎ করেই মারধর ও যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তীব্র চর্চা, সমালোচনা এবং প্রশ্ন। জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে এক লহমায় অভিযুক্ত, এই বদল অনেককেই অবাক করে দেয়। বিশেষ করে যাঁরা তাঁর কনটেন্ট নিয়মিত দেখতেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি ছিল বড় ধাক্কার মতো।

দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় জেল হেফাজতে থাকার পর অবশেষে ১২ মার্চ ২০২৬ সালে জামিন পান শমীক। তাঁর মুক্তির খবর সামনে আসতেই ফের একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় আলোচনা। কেউ তাঁর মুক্তিকে স্বাগত জানান, আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে। তবে এতদিন পর মুক্তি পাওয়ার পর শমীকের জীবন যে নতুন মোড় নিতে চলেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করে।

ঘটনার সূত্রপাত ফেব্রুয়ারি মাসে। বেহালা থানায় এক তরুণী শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শমীক ছিলেন ওই তরুণীর পরিচিত ও বন্ধু। বাড়ি বদলের অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠানো হয় বলে দাবি। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সারারাত ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়, এমনই গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামনে আসতেই পুলিশ ধর্ষণের মামলা রুজু করার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগকারিণীর আইনজীবীও পুরো ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এই ঘটনার পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও সামনে আসে, যা নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। অনেকের দাবি, গ্রেফতারের আগে শমীক একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘বাটন’। সেই ভিডিওতে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং বর্তমান শাসক দলের কিছু দুর্নীতির ইঙ্গিত তুলে ধরা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসে এবং দ্রুত গ্রেফতার করা হয়। ফলে একাংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, এটি কি শুধুই আইনি ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও প্রভাব রয়েছে? যদিও এই বিষয়ে কোনও সরকারি নিশ্চিত বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।

জামিন পাওয়ার পর কিছুদিন নীরব থাকার পর অবশেষে ৪ এপ্রিল শমীক প্রকাশ করেন তাঁর নতুন ভিডিও ‘ফিরে আসা’। এই ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে এক বন্ধু তাঁকে থামিয়ে দেয়। এরপর ভিডিওতে দেখানো হয়, যদি তিনি সত্যিই মারা যেতেন, তাহলে কী কী ঘটতে পারত। একের পর এক দৃশ্যে উঠে আসে, তাঁর প্রেমিকা অন্য কারও সঙ্গে জীবন এগিয়ে নিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে তাঁর জায়গায় অন্য কেউ এসেছে, বন্ধুরাও তাঁকে ভুলে নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ এবার থেকে গানে ‘নে’শা’ বা ‘অ’স্ত্র’-এর মতো শব্দ আর ব্যবহার নয়! সামাজিক দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে, হানি সিংকে কড়া সতর্ক বার্তা পুলিশের! কী প্রতিক্রিয়া গায়কের?

এই ভিডিওর শেষ অংশে একটাই বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে আসে, সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। মানুষ চলে গেলে জীবন থেমে যায় না, বরং নতুনভাবে এগিয়ে যায়। শুধুমাত্র তাঁর মা-বাবাকেই দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে ভেঙে পড়তে। এই উপলব্ধির পরই শমীক সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আত্মহত্যা করবেন না। ‘ফিরে আসা’ ভিডিওর মাধ্যমে তিনি সমাজের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন জীবনের কঠিন বাস্তবতা এবং মানসিক লড়াইয়ের গুরুত্ব। বিতর্কের পরেও নিজের কনটেন্টের মাধ্যমে আবারও দর্শকদের কাছে ফিরে আসার চেষ্টা, এই মুহূর্তে সেটাই শমীক অধিকারীর নতুন পরিচয়।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর