ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বরাবরই সংবেদনশীল। সামান্য ঘটনা থেকেও বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়, এটা নতুন কিছু নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে। কূটনৈতিক ভাষার আড়ালে কখনও কখনও এমন কিছু মন্তব্য উঠে আসে, যা সাধারণ মানুষের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল কলকাতার নাম।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাঁও হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা বিবৃতি, কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের উপর হামলা হলে ভারত প্রয়োজনে সীমান্ত পেরিয়েও জবাব দেবে।
এরপরই পাকিস্তানের তরফে আসে পাল্টা বার্তা। সিয়ালকোটে এক সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif) মন্তব্য করেন, ভারত যদি “মিথ্যা অজুহাতে” কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার প্রভাব কলকাতা পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে, কেন বিশেষভাবে কলকাতার নাম উল্লেখ করা হল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরাসরি সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি কৌশল হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলেই মনে করছেন অনেকেই। তবে এই ধরনের মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুনঃ ভাইরাল ভিডিও ‘বাটন’-এর পরেই গ্রেফতার, জামিনে মুক্তির পর ‘ফিরে আসা’ দিয়ে প্রত্যাবর্তন “ননসেন” শমীক অধিকারীর! শাসকবিরোধী কনটেন্টের জেরে কি একঘরে হয়ে পড়লেন নেট-প্রভাবী? বন্ধু-ঘনিষ্ঠদের দূরত্বে আজ ভরসা শুধুই পরিবার? নতুন ভিডিওতে কোন কঠিন সামাজিক সত্য তুলে ধরলেন তিনি?
বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনও কম বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। যদিও দুই দেশের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে, তবুও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ বজায় রয়েছে। ফলে সরাসরি সংঘর্ষের আগে একাধিক স্তরে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা জরুরি, কারণ এই ধরনের হুঁশিয়ারি কখনও কখনও বড় ঘটনার পূর্বাভাসও হয়ে উঠতে পারে।





