ছোট্ট মীরা কবে প্রথমবার ‘মা’ বলে ডাকবে, সেই অপেক্ষায় ছিলেন অভিনেত্রী অহনা দত্ত। ২০২৬ সালের মাতৃ দিবসে তিনি জানিয়েছিলেন, মেয়ে যেদিন প্রথম তাঁকে ‘মা’ বলে ডাকবে, সেদিন থেকেই তাঁর কাছে সত্যিকারের মাতৃদিবসের উদযাপন শুরু হবে। কারণ মীরা তখনও ‘মা’ না বললেও ‘মামা’, ‘কাকা’, ‘দাদা’ এবং ‘বাবা’ বলতে শিখে গিয়েছিল। তাই মেয়ের মুখে সেই বিশেষ ডাক শোনার ইচ্ছা ছিল তাঁর অনেক দিনের। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। মাতৃ দিবসের মাস শেষ হওয়ার আগেই মীরা প্রথমবার ‘মা’ বলে ডেকে ফেলেছে। আর সেই আনন্দের মুহূর্তে আবেগে ভেসেছেন অভিনেত্রী।
৩১ মে-র সেই বিশেষ মুহূর্তটি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন অহনা। নিজের পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ওই দিনই প্রথমবার তাঁকে ‘মা’ বলে ডেকেছে মীরা। শেয়ার করা ভিডিওতেও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে ছোট্ট মীরার মুখে ‘মা’ ডাক। বহুদিনের অপেক্ষার পর এই মুহূর্ত তাঁর কাছে যে কতটা মূল্যবান, তা ভিডিওর মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায়। অনুরাগীরাও এই সুখবর পেয়ে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রীকে। মুহূর্তটি দ্রুতই সমাজমাধ্যমে নজর কাড়ে। অনেকেই মা ও মেয়ের এই সুন্দর সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন।
বর্তমানে অহনাকে দেখা যাচ্ছে ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকে একটি নেতিবাচক চরিত্রে। এর আগে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকে মিশকা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। পাশাপাশি ‘সন্তান’ ছবিতেও অভিনয় করেAZছেন তিনি। কিছুদিন অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার পর আবারও জি বাংলার একটি নতুন ধারাবাহিকের মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন অভিনেত্রী। অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের জন্য সময় বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। বিশেষ করে মেয়ে মীরার সঙ্গে সময় কাটানোই এখন তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।
তবে কাজের ব্যস্ততার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় মীরার কাটে তার দাদুর সঙ্গে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাবা-মা দুজনেই কর্মব্যস্ত থাকায় মীরার দেখভালের বড় দায়িত্ব সামলান দাদু। তবুও সুযোগ পেলেই মেয়ের সঙ্গে সময় কাটান অহনা। বিভিন্ন সময় সমাজমাধ্যমেও মীরার নানা মুহূর্ত শেয়ার করতে দেখা যায় তাঁকে। মা-মেয়ের এই সম্পর্কের নানা ঝলক অনুরাগীদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। তাই মীরার প্রথম ‘মা’ ডাকের ভিডিও প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যেও।
আরও পড়ুনঃ ‘আমরাই আসল তৃণমূল’ স্লোগানে কি বাড়ছে অন্দরের বিদ্রোহ? এবার কি মমতা-অভিষেকের পছন্দের বিরোধী দলনেতাকেই পাল্টে দেওয়ার প্রস্তুতিতে ঘাসফুলের বিধায়কদের একাংশ?
অহনার ব্যক্তিগত জীবনও বহুবার আলোচনায় এসেছে। ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিকের সেটেই দীপঙ্করের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রেমের সম্পর্ক, যা পরে বিয়েতে গড়ায়। তবে ডিভোর্সি হওয়ায় দীপঙ্করকে মেনে নিতে পারেননি অহনার মা। সেই কারণে মা ও মেয়ের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়, যা এখনও পুরোপুরি মেটেনি বলে জানা যায়। ভালোবাসার সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে একসময় বাড়ি ছেড়েছিলেন অহনা। প্রায় দেড় বছর লিভ ইন সম্পর্কে থাকার পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন তাঁরা। তবে সেই অনুষ্ঠানে অহনার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না, শুধুমাত্র দীপঙ্করের পরিবারের সদস্যরাই ছিলেন।






