বিশ্ব ক্যানসার দিবসে তিনি এই প্রজন্মের কাছে একজন আইকন বটে। লড়াইয়ের মুখ তিনি। তাঁর লড়াকু মনোভাব যে অনেকেই উদ্বুদ্ধ করে বা আগামীতেও করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি আর কেউ নন, ক্যানসারজয়ী ঐন্দ্রিলা শর্মা।
আগামীকাল তাঁর জন্মদিন। তবে বাগদেবীর বন্দনা হবে এদিন ঐন্দ্রিলার বাড়িতে। এই কারণে জন্মদিন উদযাপন হবে রবিবার। এরই মধ্যে আগামী মার্চ থেকে কাজে ফিরছেন তিনি। এর জন্য অল্প শরীরচর্চা, হালকা ডায়েটে মন দিতে হচ্ছে ঐন্দ্রিলাকে। ঘরেই রূপটান নিচ্ছেন তিনি। ধীরে ধীরে একটু একটু করে বাইরেও বেরোচ্ছেন তিনি। তবে এবার ঐন্দ্রিলাকে দেখা যাবে ওয়েব সিরিজে।
এর আগে এক সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের ক্যানসার জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রথম বার যখন মারণরোগ হয়েছিল তখন আমি খুবই ছোট। তাই বেশি ভেঙে পড়েছিলাম। বেশি কষ্টও পেয়েছিলাম। এ বার সব্যসাচী পাশে থাকায় কষ্টটাকে যেন কষ্ট বলেই মনে হয়নি। ওর ইতিবাচক স্পর্শে আমি অনেকটাই নিশ্চিন্ত ছিলাম। যা সাধারণত হওয়ার কথা নয়”।
ঐন্দ্রিলা এও জানান এত গুলো দিনে বাইরের জগৎটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তিনি যেখানে রূপচর্চার জন্য যেতেন, সেখানকার অনেক কর্মী বদলে গিয়েছেন। তাঁকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে অনেকের। আগে সবাই জানাতেন, তাঁর অভিনয় নিয়মিত দেখেন। ভাল লাগে। আর এখন বলেন, “তোমার লড়াই দেখেছি। অনেক কষ্ট করে জিতে ফিরলে। আমরা খুশি”।
ঐন্দ্রিলা যে ভালো অভিনেত্রী, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর ধারাবাহিক ‘জিয়ন কাঠি’ বেশ ভালো জনপ্রিয়তা পায়। তবে তাঁর অভিনয় প্রতিভা কী ক্যানসারের কাছে একটু হলেও হার মেনেছে? এখন কী ঐন্দ্রিলা শুধুমাত্র ক্যানসারজয়ী মুখ?
ঐন্দ্রিলার কথায়, “প্রথম বারের ক্যানসারের খবর কেউ জানতে পারেনি। ফলে, প্রশ্ন বা আলোচনার কোনও সুযোগ তৈরি হয়নি। দ্বিতীয় বারের সমস্ত খুঁটিনাটি সব্যসাচী ফেসবুকে দিয়েছে। সবাই জেনেছে। আমার নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছে। জানার আগ্রহও তৈরি হয়েছে”।
ঐন্দ্রিলার কথায় আজ অনেক ঘরে ঘরেই ক্যানসার থাবা বসাচ্ছে। কেউ এই মারণরোগের সঙ্গে লড়তে সক্ষম হয়েছেন, কেউ বা হেরে গিয়েছেন। ঐন্দ্রিলার কথায়, তাঁর জয়কে অনেকে নিজেদের জয় করে উদযাপনে সামিল হয়েছেন। তাঁর কথায়, কেউ যদি তাঁর লড়াই দেখে অনুপ্রাণিত হন, কারোর মনে সাহস জাগে, তাহলে ক্ষতি কী!
তবে অনুকম্পার ছায়া কী একেবারেই থাকে না? ঐন্দ্রিলার জবাব, “এমনও শুনতে হয়েছে, ও বাবা, ক্যানসার? তার মানে তো সব শেষ…! চুপচাপ শুনেছি। মা-বাবা-দিদি আর সব্যসাচীকে নিয়ে লড়ে জবাব দিয়েছি তাঁদের”।





