সম্প্রতি উত্তর ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা নতুন এক জিগির তুলেছিলেন। নেটফ্লিক্সে অনুষ্কা শর্মা প্রযোজিত বুলবুল সিনেমা বাউল গান কলঙ্কিনী রাধাকে বিকৃতির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়েছে। সেই গানের কানু হারামজাদা কথাতেও ঘোর আপত্তি হিন্দুত্ববাদীদের। কেন কানুকে হারামজাদা বলা হবে এবং রাধাকে কলঙ্কিনী আখ্যা দেওয়া হবে একথা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না এই হিন্দুত্ববাদীরা। তাদের একটাই দাবি ছিল যে নেটফ্লিক্সকেই বন্ধ করে দিতে হবে ভারত থেকে। বাংলার জনপ্রিয় এই লোকগীতি হঠাৎ করে যে এরকম একটা বিতর্কে লাইমলাইটে চলে আসবে তা কেউই বুঝতে পারেননি।
আর এই বিষয়টা অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের নজরে আসতেই তিনি এই হিন্দুত্ববাদীদের মোক্ষম দাওয়াই দিলেন! কোনওরকম কড়া ভাষা তিনি ব্যবহার করেননি। শুধুমাত্র এই গানের একটা শব্দ অদল বদল করে তিনি পোস্ট করলেন আর সঙ্গে হ্যাশ ট্যাগ দিলেন ভাবাবেগ ম্যাটারস।
“ও কি ও… গরবিনী রাধা… কদম ডালে বসে আছে… কানু সাহেবজাদা…” এবার ঠিক আছে?
তাঁর এই পোস্টের পরেই তাঁর সরস বুদ্ধির তারিফ করছেন সকলেই। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন বাংলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে কোন জ্ঞান ভান্ডার উত্তর ভারতের হিন্দুদের নেই। তারা কি জানে যে এই গানটা একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী লিখেছিলেন?
ও কি ও….
গরবিনী রাধা…
কদম ডালে বসে আছে…
কানু সাহেবজাদা…
এবার ঠিক আছে ?#ভাবাবেগম্যাটার্স— Anirban Bhattacharya (@AnirbanSpeaketh) July 4, 2020
সেখানে অনির্বাণের পোস্ট তাঁদেরকে অনেকটাই ভরসা যুগিয়েছে। অনির্বাণ চিরকালই বুদ্ধিদীপ্ত ভাষার মারপ্যাঁচ প্রয়োগ করে থাকেন। শব্দচয়নেও তিনি বাংলার অন্যান্য সেলিব্রিটিদের থেকে অনেক আলাদা।
তাই তিনি এই হিন্দুত্ববাদীদের মন জোগাতে কলঙ্কিনী রাধা কে পরিণত করেছেন গরবিনী রাধাতে এবং হারামজাদার বদলে কানুকে সাহেবজাদা বানিয়ে দিয়েছেন। এবার তিনি আশা করছেন যে হিন্দুত্ববাদীরা কানু এবং রাধার জন্য আর অপমানিত বোধ করবেন না।






