বলিউডের শুটিং ফ্লোরে কাজের চাপ, দীর্ঘ সময় এবং খাবারের অভাব নতুন বিষয় নয়। তবে এবার এই বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী অর্চনা পুরণ সিং। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অনেক প্রযোজনা সংস্থা এখনও এমনভাবে কাজ করায়, যার প্রভাব পড়ে শুটিং ইউনিটের কর্মীদের ওপর। অর্চনা অভিযোগ করেন, বর্তমানে শুটিংয়ের শিফট প্রায় ১২ ঘণ্টারও বেশি হয়, অনেক সময় তা ১৩-১৪ ঘণ্টায় পৌঁছে। এসব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার পরেও কর্মীদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না, যা শুটিংয়ের পরিবেশে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।
অর্চনা আরও বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার পর খাবারের সুযোগ না পাওয়া কিংবা খুব কম খাবার দেওয়ার মানসিকতা আসলে অমানবিক। এটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং এই ধরনের ব্যবস্থার ফলে কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ে, যা পুরো ইন্ডাস্ট্রির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। শুটিং ইউনিটের সদস্যরা একদিকে দীর্ঘ সময় কাজ করেন, অন্যদিকে খাবারের জন্যও চরম অনটন সহ্য করেন। এমন পরিস্থিতি সবার জন্যই অত্যন্ত কষ্টকর এবং এই ব্যবস্থায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া, শুটিং ফ্লোরে সাধারণত টেকনিশিয়ানরা দিনের পর দিন রোদে দাঁড়িয়ে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু তাদেরও খাবারের সুযোগ দেওয়া হয় না, যা আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অর্চনা জানান, একদম অল্প খাবার দেওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অথচ তারা এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতেও সাহস পান না। একাধিক প্রযোজনা সংস্থা এমন ব্যবস্থার মাধ্যমে শুটিং করে, যা বেশিরভাগ সময় একেবারে অমানবিক হয়ে দাঁড়ায়।
অর্চনা অবশ্য আরও জানান, পর্দার সামনে যাদের আমরা সাফল্য দেখে প্রশংসা করি, তাদের এই সফলতার পেছনে মূলত যারা কাজ করেন, তাদের শ্রমের মূল্য অনেক কম। এই লোকজনের যদি খাবার ও বিশ্রামের সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের কাজের মানও প্রভাবিত হতে বাধ্য। তিনি বলেন, এই ধরনের পরিবেশের কারণে পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ খারাপ হয়ে যেতে পারে। সুতরাং, কর্মীদের প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।
অর্চনার এই মন্তব্যের পর শুটিং ফ্লোরের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন তারকা শুটিংয়ের ৮ ঘণ্টার শিফট চালুর দাবি জানিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর অভিযোগের পর আবারও একই দাবি সামনে এসেছে, যে শিফটের সময়সীমা নির্দিষ্ট করা উচিত। আর এই বিষয়টি যদি গুরুত্বসহকারে নেয়া হয়, তাহলে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কর্মীদের কাজের পরিবেশ অনেক উন্নত হতে পারে।






