ভারতের সংসদে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল নারী সংরক্ষণ বিলের জন্য। বিলটি পাস হওয়ার পর মহিলাদের জন্য রাজনীতিতে আরও বেশি জায়গা নিশ্চিত হতে পারতো। কিন্তু ভোটাভুটির ফলে, বিলটি পাস হতে ব্যর্থ হয়, যা সমগ্র দেশের মহিলাদের জন্য ছিল একটি হতাশার খবর। বিলটি পাস না হওয়ায় শোকাহত হয়ে পড়েন বিজেপির মথুরার সাংসদ, বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনী। তিনি একদিকে রাজনীতিক, অন্যদিকে একজন নারী হিসেবেও এটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন।
বিলটির পাস না হওয়ায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে হেমা মালিনী এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি জানান, এটি শুধু একটি রাজনীতির বিষয় নয়, বরং ভারতের সমস্ত মহিলাদের জন্য একটি দুঃখজনক দিন। তিনি আরও বলেন, “বিলটি আটকে যাওয়ায় নারীদের সার্বিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি হলো।” সংসদে এই বিল নিয়ে হেমা মালিনী বেশ জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন, যেখানে তিনি মহিলাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু ফলাফল আসল বিপরীত।
এছাড়া, হেমার মতো কঙ্গনা রানওয়াতও এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কংগ্রেসের কারণে ভারতের মহিলাদের মনোবল ভেঙে গেছে। কঙ্গনা আরও বলেন, এটি ভারতের নারীদের জন্য একটি অপমানজনক ঘটনা। অভিনেত্রী কঙ্গনা রানওয়াত, যিনি নিজেও একজন সাংসদ, সরাসরি কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেছিলেন যে, কংগ্রেস তাদের সীমা অতিক্রম করেছে। এই পরিস্থিতি যেন আর কোনো ভারতীয় মহিলার জন্য হতে না পারে, সেই কামনা করেন কঙ্গনা।
কোনো বিল পাস হওয়ার জন্য সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়, কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এই বিলের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু লোকসভায় বিলের পক্ষে যথেষ্ট সংখ্যক ভোট পড়লেও, প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূর্ণ হয়নি। এর ফলে ভারতের মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের যে আশা ছিল, তা অল্পের জন্য ভেস্তে গেল।
হেমা মালিনী এবং কঙ্গনা রানওয়াতের মতো বড় তারকা সাংসদরা এই পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও, তারা হাল ছাড়ছেন না। হেমা মালিনী তার অনুগামীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর বিশ্বাস রাখতে বলেছেন এবং দেশের মহিলাদের অধিকার রক্ষায় লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও এই বিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে, তবে এই ঘটনাটি তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এর পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে।





