এই সপ্তাহের শুরুতেই ‘বিগ বস বাংলা’য় ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে রাজবীর দে প্রবেশ করার পর থেকেই বদলে গিয়েছে গেমের সমীকরণ। দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, নিজের স্বার্থে জয়িতাকে ব্যবহার করছেন রাজবীর, এমনকী তাঁর কথাতেই জয়িতা অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে তনুশ্রী রায় দাস, নন্দিনী এবং ভরত কল যখন বাঘের ভূমিকায় বন্দি ছিলেন, তখন তনুশ্রীকে সরানোর পরিকল্পনা করেন রাজবীর। জয়িতাকে তিনি তনুশ্রীর সমস্ত জিনিস এনে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং জানান, পরের বিষয়টি তিনি সামলে নেবেন। এরপর তনুশ্রীর সামনে গিয়ে রাজবীর বলেন, জয়িতা তাঁর উপর খুব রেগে রয়েছেন। তবে তনুশ্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এতে তিনি একটুও ভয় পাচ্ছেন না এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁর কিছু যায় আসে না। এরপর রাগের ভান করে ঘরে ঢুকে তনুশ্রীর মেকআপ বক্স এবং স্যানিটারি প্যাড এনে সবার সামনে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন জয়িতা।
জয়িতাকে এমনটা করতে দেখে মনামী ঘোষ তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কথা শোনেননি জয়িতা। ঘরের অন্য সদস্যরাও এই ঘটনায় বিরক্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রকাশ্যে জয়িতার এই আচরণের বিরোধিতা করেন। তনুশ্রীও বুঝিয়ে দেন, তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এভাবে ফেলে দিলেও তাঁকে ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক থেকে সরানো সম্ভব নয়। ফলে রাজবীরের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি এবং নিজের জায়গা থেকে একচুলও সরেননি তনুশ্রী। পরে সকলের সামনে রাজবীর নিজেই স্বীকার করেন যে গোটা ঘটনাটিই তাঁর পরিকল্পনা ছিল। তখন সৃজলা গুহ এবং মনামী জয়িতাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, রাজবীর আসলে তাঁকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। তাঁদের মতে, রাজবীরের কথায় জয়িতা নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন এবং অনেকটা তাঁর ইচ্ছেমতোই চলছেন।
তবে এই ঘটনার পর জয়িতার আচরণ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এক দর্শকের মতে, তনুশ্রীর মাসিক হওয়া নিয়ে এভাবে অস্বস্তি তৈরি করার কোনও কারণ নেই, কারণ এটি মেয়েদের স্বাভাবিক শারীরিক বিষয়। তনুশ্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ওই দর্শক বলেন, “মা*সিক এমন কোনো ব্যাপার নয়, সব মেয়েদের হয়। আমার মেয়েকে আমি দারুণভাবে মানুষ করেছি। আমার মেয়ের নামে কিছু বললে কেউ কষ্ট পেয়ো না, আমি ওকে দারুণ মানুষ করেছি।” এরপর নিজের আত্মবিশ্বাসের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি যেখান থেকে এসেছি, সেখানে আমাকে সবাই ভয় পায়। আমি না, এতটাই আত্মবিশ্বাস লাগে বিগ বসে থাকতে গেলে।” তাঁর বক্তব্য, মা হিসেবেও মেয়েকে কেউ কিছু বললে চুপ করে থাকার বদলে নিজের কথা স্পষ্টভাবে বলতে হয়। তাই কোনও মেয়ে হওয়া বা মেয়ের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর নামে চুপ না থেকে নিজের বক্তব্য দৃঢ়ভাবে তুলে ধরাই উচিত বলে মনে করেন তিনি। এই দর্শকের চোখে তনুশ্রীর সেই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
ওই দর্শক আরও জানান, প্রথম দিন থেকেই তনুশ্রীকে তাঁর ভালো লাগে এবং তাঁর মতে তনুশ্রী পুরোপুরি বিগ বসে থাকার উপযুক্ত। তাঁর বক্তব্য, ঘরের কাজকর্ম নিয়েও তনুশ্রীর কোনও বিরক্তি নেই, রান্না করে যা দেওয়া হচ্ছে সেটাই তিনি খেয়ে নিচ্ছেন। এমনকী সৃজলা গুহও বলেছেন, তনুশ্রী পরিস্থিতির সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারেন। দর্শকের মতে, এই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং নিজের জায়গায় দৃঢ় থাকার বিষয়টি তনুশ্রীর চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করে। তিনি আরও জানান, তনুশ্রীকে তিনি আগে থেকেই চেনেন এবং তাঁর ভিডিও অনেক আগে থেকেই দেখেন, কারণ তিনি শাড়ি পরতে পছন্দ করেন। সেই সূত্রেই তনুশ্রীর স্বভাব সম্পর্কেও তাঁর ধারণা তৈরি হয়েছে বলে জানান ওই দর্শক। তাঁর দাবি, তনুশ্রী একেবারেই ভান করেন না এবং যা করেন, নিজের মতো করেই করেন।
আরও পড়ুনঃ মহানায়কের সামনে বারবার ভুল, শেষে উত্তমের পা ধরে ক্ষ’মা চান অমিতাভ! সেদিন কী ঘটেছিল ‘দেশপ্রেমী’র সেটে?
তনুশ্রীর প্রতি নিজের সমর্থন জানিয়ে ওই দর্শক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তনুশ্রী রায় দাসকে ভালোবাসি।” তাঁর মতে, বর্তমানে তনুশ্রী যেভাবে খেলছেন, সেটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে। রাজবীরের কথায় জয়িতা যেভাবে তনুশ্রীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সবার সামনে ফেলে দিয়েছেন, তার সঙ্গে কোনওভাবেই একমত নন তিনি। বরং তাঁর বক্তব্য, একজন মেয়ে হয়ে অন্য একজন মেয়ের ব্যক্তিগত বিষয়কে সম্মান করা উচিত ছিল। তনুশ্রীকে নিয়েও তাঁর মন্তব্য, তিনি একেবারেই ভুয়ো নন এবং নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলায় এগিয়ে যাচ্ছেন। তাই অন্য কারও কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজের বক্তব্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সবশেষে তনুশ্রীকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বার্তা, “শুধু দারুণভাবে খেলছ, এগিয়ে যাও।” এই দর্শক প্রতিক্রিয়ার পর ‘বিগ বস বাংলা’য় তনুশ্রীর পাশে দাঁড়ানো এবং জয়িতার আচরণ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।






