‘লর্ডসে ঘুরপাক জামা মানে দাদাগিরি’! সেই ‘দাদাগিরি’কেই এখন বাঙালির ঘরের কোণায় কোণায় এনে দিয়েছে জি বাংলা। বাংলার দাদা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় জি বাংলার এই রিয়্যালিটি শো এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। কিন্তু এবার এই শো নিয়ে এক বিতর্ক দানা বাঁধল।
গত বছর শেষ হয়েছিল দাদাগিরি সিজন ৯। সেই সিজনের ফাইনালে সকলকে পিছনে ফেলে দাদাগিরির ট্রফি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন বীরভূমের মইনুদ্দিন। নিজের জেলাকে সবথেকে বেশি নম্বর পাইয়ে দাদাগিরির খেতাব জয় করেছিলেন তিনি। চোখে দেখতে পান না মইনুদ্দিন। তাঁর জিতে মেতেছিল উঠেছিল গোটা বাংলা।
দুঃস্থ পরিবারের ছেলে মইনুদ্দিন। দাদাগিরি জিতে নিজের গোটা জেলার বাসিন্দাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন এই ব্যক্তি। মইনুদ্দিন ও তাঁর পরিবারের কষ্টের কথা শুনে সেদিন দর্শকের চোখের জলও বাঁধ মানে নি। তবে সকলকে পিছনে ফেলে ঠিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে উঠেছিল সেই মইনুদ্দিনেররই।
মইনুদ্দিন দাদাগিরি জেতার পর তাঁকে ক্যাপ্টেন টিএমটি বারের তরফে জানানো হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও জেলায় ১৫ লক্ষ টাকার একটি ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন তিনি। কিন্তু সেই খেলা জেতার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কোনও ফ্ল্যাট পান নি মইনুদ্দিন।
মইনুদ্দিনের এই ফ্ল্যাট না পাওয়া নিয়ে সরব হন বাংলা পক্ষ ও সংস্থার সহ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। নিজের ফেসবুকে মইনুদ্দিনের একটি ভিডিও পোষ্ট করে তিনি লেখেন, “এ কেমন দাদাগিরি? এখনও প্রাইজ হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট দাদাগিরি সিজন ৯ গ্রান্ড ফাইনাল জয়ী মইনুদ্দিনকে দেয়নি ক্যাপ্টেন টিএমটি রাস্টগার্ড। তাহলে কোটি কোটি বাঙালির সামনে ওই প্রাইজ ঘোষণার মানে কি”?
এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানান বিতর্ক। ধোঁকা দেওয়া হয়েছে একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে, এমনই মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। এই নিয়ে জি বাংলা কর্তৃপক্ষের তরফে কিছু জানানো হয়নি। মুখ খোলেন নি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। মইনুদ্দিনের মতো আরও কোনও বিজেতার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে কী না, এখন সেই প্রশ্নও উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।






