একরাশ অভিমান নিয়ে ম্যাজিক ছেড়ে দিলেন জুনিয়র পি সি সরকার, কাকে দোষী ঠাওরালেন বিশ্বখ্যাত জাদুকর?

গিলি গিলি ছু… এই কথার পর যা ঘটত, তা দেখে কার্যত হাততালিতে ফেটে পড়ত গোটা অডিটোরিয়াম হল। কিন্তু সেই শব্দ আর শোনা যাবে না, আর স্টেজে দেখা যাবে না কীভাবে একের পর এক জিনিস ভ্যানিশ হয়ে আবার অন্য এক জিনিস আসছে স্টেজে। কারণ ম্যাজিক ছেড়ে দিলেন বিশ্বখ্যাত ম্যাজিশিয়ান পি সি সরকার জুনিয়র। তাঁর কথায়, “কে আর দেখবে ম্যাজিক? সমাজ বদলে গিয়েছে”।

হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন জাদুকর?   

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুনিয়র পি সি সরকার বললেন, “কেউ যদি স্বপ্নটাকেই লাথি মেরে দেয়, ম্যাজিক করব কীভাবে। আমার স্বপ্নটাই ভেঙে গিয়েছে। আমাদের দেশে রূপকথা উঠে গেছে। ব্যাঙ্গমা বেঙ্গমি জন্মাবে না। সিন্ড্রেলা হবে না। আমাদের দেশ দুর্নীতি পরায়ণ হয়ে গিয়েছে”।

তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “যে মনে নীচু, তার হাতে যদি ক্ষমতা হয়ে যায়, তাহলে দেশ চলবে কীভাবে? বাঙালিকে বলি, বেশ হয়েছে, ভুল নির্বাচন করেছিলিস। বেশ হয়েছে। পরবর্তী জেনারেশন জুতো মেরে দেশকে ঠিক করবে”।

দেশ ও রাজ্যের রাজনীতিতে পতনের দিকে এগোচ্ছে বলে মত পি সি সরকারের। বাংলার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি দেখলে তাঁর বমি পায়। পি সি সরকারের কথায়, “ইচ্ছা করে গিয়ে ঘুষি মারি নেতাদের। শিক্ষায় দুর্নীতি করে আসলে সমাজটাকে শেষ করা হচ্ছে। দেশ নষ্ট করার এটা সুপ্ত অপচেষ্টা চলছে”। আর এই সব কারণেই ম্যাজিক ছেড়ে দিতে চান বলে জানান পি সি সরকার। 

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে বিজেপির হয়ে লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন পি সি সরকার। ভোটে জিততে পারেন নি। রাজনীতিতে আসা নিয়ে তিনি বলেন, “আমি একবার ভোটে লড়েছিলাম। মন্ত্রী বা সাংসদ হওয়ার জন্য নয়। সে হওয়ার জন্য লোক আলাদা। আমি সেই সময় দেখলাম, শিক্ষিত লোকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজনীতিতে আসছেন না। সেই জন্য বদমায়েশ, হাড় বজ্জাত লোকগুলি রাজনীতি করে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে”।

তবে কী রাজনীতিতে আসা তাঁর ভুল ছিল?

কোনওরকম রাখঢাক না রেখেই পি সি সরকার জুনিয়র বলেন যে তিনি ‘বলির পাঁঠা’ হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, তিনি ভোটে যদি জিততেন, তাও পদত্যাগ করতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ভোট ময়দানে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি আমজনতাকে একটি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে অনেক বিদ্বান, বুদ্ধিমান লোক আছেন। তাঁরা যতক্ষণ পর্যন্ত না রাজনীতিতে আসবেন এবং হাল ধরবেন, ততক্ষণ এই জিনিসটাই চলতে থাকবে। চোর-ছ্যাঁচোরে ভর্তি হয়ে যাবে”।

আরও অন্যান্য খবর