গত ২২ মে ইম্পার ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। বৈঠক চলাকালীন আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন পিয়া সেনগুপ্ত, যার জেরে মাঝপথেই ভেস্তে যায় পুরো সভা। এরপর ২৫ মে ইম্পার অফিসে নতুন করে শুরু হয় রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সেই দিন রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে সংবর্ধনা জানানো হয় এবং বিশাল মালা পরিয়ে তাঁকে এই দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান উপস্থিত সদস্যরা। অনুষ্ঠানে পরিচালক গৌতম ঘোষকেও রতন সাহার পাশে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইম্পার অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সদস্যদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও অন্য পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল আকার নিতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি করার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করেন পিয়া সেনগুপ্ত। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনও নির্বাচন ছাড়াই কাউকে সভাপতি ঘোষণা করা তিনি মেনে নিচ্ছেন না। তাঁর প্রশ্ন, ভোট ছাড়া কীভাবে একজনকে এই পদে বসানো সম্ভব হল। পাশাপাশি তিনি স্বজনপোষণের অভিযোগও তোলেন। শতরূপ সাহাকে আক্রমণ করে পিয়া বলেন, আগে যখন বনি সেনগুপ্তকে নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল তখন অনেকে সরব হয়েছিলেন, কিন্তু এখন সেই একই বিষয় নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছেন না কেন। এই দ্বিচারিতা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পিয়ার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তিনি সহজভাবে নিচ্ছেন না। বরং গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে চান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পিয়া সেনগুপ্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে হওয়া ট্রোলিং নিয়েও মুখ খোলেন। অসুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। পিয়া বলেন, সেদিন যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই দেখেছেন কীভাবে তাঁর মাথা ও ঘাড়ে জল দেওয়া হচ্ছিল। তারপরেও তাঁর অসুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ধরনের মন্তব্য মানুষের মানসিকতার পরিচয় দেয়। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, রতন সাহাকে সভাপতি করা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তাতে তাঁর কোনও সম্মতি নেই। কারণ সেখানে কোনও ভোটই হয়নি। তাই হার স্বীকার করার প্রশ্নও ওঠে না বলে জানান পিয়া। তাঁর দাবি, তাঁকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ঝু’লন্ত দেহ, ত্বিষা শর্মা মৃত্যু’তে সিবিআই তদ’ন্তের পথে সুপ্রিম কোর্ট, মিডিয়া ট্রায়াল নিয়ে ক’ড়া বার্তায় নতুন মোড় মামলায়!
আইনি বিষয় নিয়েও এদিন বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন পিয়া সেনগুপ্ত। তিনি জানান, হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই বছরের নির্বাচনে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না। পাশাপাশি তিনজন আইনজীবীকে পুরো বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান পিয়া। তাঁর কথায়, ২০২৭ সালের ভোটের আগে একটি নতুন ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে। সেই কারণেই বর্তমান কমিটি এখনও আইন মেনেই কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি। পিয়া বলেন, “এর মানে ২০২৭ পর্যন্ত আমরা আছি। আমরা আইন মেনেই এখানে রয়েছি। আগামী দিনেও আইন মেনেই চলব। এখানে কোনও আইন বহির্ভূত কাজ হচ্ছে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে বর্তমান অবস্থান থেকে সরার কোনও ইচ্ছা তাঁদের নেই। বরং আইনি কাঠামোর মধ্যেই তাঁরা এগোতে চান।
অন্যদিকে, রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে সামনে আনার পর ইম্পার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। একদিকে নতুন নেতৃত্বের দাবি, অন্যদিকে পিয়া সেনগুপ্তের সরাসরি বিরোধিতা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বর্তমানে ইম্পার দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পিয়া ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নিজের পদ ছাড়তে রাজি নন এবং প্রয়োজনে আইনি পথেই এগোবেন। ফলে আগামী দিনে এই সংঘাত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ইম্পার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে এই বিতর্ক যে সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।






