টলিউড অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের এক পুরনো টুইট নতুন করে সমালোচনার মুখে এসেছে। পাঁচ বছর আগে, ২০২১ সালের ২ মে তিনি টুইট করেছিলেন, “আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষণা হোক।” টুইটের নিচে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মন্তব্য করেছিলেন, “হা হা হা হোক হোক।” সেই সময় রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর এই টুইটকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিছু মানুষ অভিযোগ করেছিলেন, এই মন্তব্য হিংসা উসকানি দিতে পারে। পরমব্রত তখনি দাবি করেছিলেন, টুইটটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন ছিল।
পরমব্রতের কথায়, এই টুইটের প্রেক্ষাপট ছিল দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য। তিনি জানিয়েছেন, “দিলীপ ঘোষের কথায় আমি এতটাই অপমানিত হয়েছিলাম যে, আমি কল্পনাই করতে পারিনি একজন রাজনীতিবিদ এমন কথা বলতে পারেন। যাঁদের আজকে এই শব্দপ্রয়োগ নিয়ে অসুবিধা হচ্ছে, আমি তাঁদেরকে বলব, দলমত নির্বিশেষে, তাঁরা তখন গিয়ে কেন দিলীপ বাবুকে বলেননি, যে এই ভাষাটা আপনি ব্যবহার করেছেন কেন?” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ওই সময় বিভিন্ন দল থেকে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য সমালোচিত হয়েছিল। এমনকি তাঁর সতীর্থরাও এই ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় বলেছিল।
পরমব্রত স্পষ্ট করেছেন, “আজকে যাঁরা এটা নিয়ে আওয়াজ করছেন, তাঁরা দিলীপ বাবুর কথাটা জানেনই না। দিলীপ বাবুই প্রথমে এই শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন। আমার করা মন্তব্যটি ছিল সেই বন্ধুর মজার ছলে করা একটি টুইট এবং সেটা উসকানির উদ্দেশ্যে নয়।” তিনি দাবি করেছেন, টুইটটি মূলত আনন্দ প্রকাশের জন্য করা হয়েছিল, কারণ তখন ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল এবং যে মানুষ দম্ভপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।
অভিনেতা আরও বলেছেন, “আমি টুইটটা করেছিলাম সম্পূর্ণভাবে যে মানুষটা দম্ভ থেকে এই ভাষাটা ব্যবহার করেছিলেন, তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন মানুষের রায়ে, সেই আনন্দে আমি ওটা লিখেছিলাম। সেটাকে আজকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কিন্তু আজকে সেটা নিয়ে যদি ভাবতে বসি, তাহলে সমাজমাধ্যমে যেকোনও বিষয়ই ভুলভাবে তুলে ধরা হবে।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার এই প্রবণতাকেও নিয়ে সতর্ক করেছেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলা সহায়তা কেন্দ্রেই কি সবচেয়ে বড় গলদ? কাজ কম অথচ হাজার হাজার কর্মী! নবান্নের অডিট ঘিরে বাড়ছে ছাঁটাইয়ের জল্পনা!
পরমব্রত বলেন, “আজকে যা বেশি জরুরি তা হলো নতুন সরকারকে বলতে হবে, পশ্চিমবঙ্গকে দরকার কর্মসংস্থান। সোশ্যাল মিডিয়ায় সারাদিন থাকা, অযাচিত মন্তব্য করা বা সঠিক তথ্য না নিয়ে মতামত দেওয়া কমানো দরকার।” তিনি মনে করান যে, অনেক সময় ছোট্ট মন্তব্যও বড় বিতর্কের কারণ হয়ে যায়। তাই সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাদের উভয়কেই বিষয়টি বুঝে নেওয়া জরুরি।






