‘বাবুদার বাড়িতে যারা কাজের লোক, তাদের ক্লাসও ওদের থেকে এগিয়ে’, ‘নয়ন রহস্য’ নিয়ে ট্রোল হতেই ট্রোলারদের কড়া জবাব ইন্দ্রনীলের

Indranil Sengupta: ১০ই মে মুক্তি পেয়েছে নয়ন রহস্য। নয়ন রহস্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখা যাবে রাজেশ শর্মাকে। ‌রয়েছেন দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়। নয়নের চরিত্রে দেখা গিয়েছে ক্লাস সিক্সের ছাত্র অভিনব বড়ুয়াকে। এছাড়াও শুভজিৎ দত্ত, মোহন আগাসে অনেকেই এই ছবিতে রয়েছেন। এই ছবি প্রযোজনার দায়িত্ব রয়েছেন সুরিন্দার ফিল্ম। ‌ তবে এই ছবি ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই বারবার কটাক্ষের শিকার হয়েছে। ছবি মুক্তির পরে ট্রোলের বন্যা বয়েছে। অধিকাংশ দর্শকদেরই ভালো লাগেনি সিনেমাটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে মিম বানানো। এবার তার জবাব দিলেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (Indranil Sengupta)

প্রথমে এই ছবির ট্রেলার দেখে ইউটিউবার ঝিলম গুপ্ত লিখেছেন, ‘ঘুম এসেছিলো জানেন। তারপর নয়ন রহস্য সিনেমার ট্রেলার দেখলাম। ঘুমটা এখন আর খুঁজে পাচ্ছিনা।’ অপর একজনের কথায়, ‘নয়ন রহস্য-র ট্রেলার দেখে নিজের চোখটাই উপড়ে নিতে ইচ্ছে করছে।’ মজা করে অনেকেই অনেক কিছু লেখেন। এক নেট নাগরিকের মন্তব্য ‘নয়ন রহস্য-র ট্রেলার দেখার পর স্বর্গের দরজায় মানিকবাবু, প্রদোষ এলি? আহা রে, কী অবস্থা হয়েছে চেহারার! তোকে তো চিনতেই পারছি না।’ কেউ লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে ‘নয়ন রহস্য’ নামে ইউটিউবে যেটা ঘুরছে ওটা আসলে একটা শর্ট ফিল্ম, ট্রেলার বলে পোস্ট করে দিয়েছে ভুল করে। আর ফেলুদা খেউরি না করে মেরুন প্যান্ট পরে দৌড়োয় কেন আজকাল? মতামত একদম ব্যক্তিগত। গালাগাল দিলে মাথা পেতে নেব।’

সমালোচনা, ট্রোলিং, কটাক্ষ এখন সিনে জগতের একটি অঙ্গ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রোলিং সহ্য করতে পারেন না অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (Indranil Sengupta)। ট্রোলারদের মুখে উপযুক্ত জবাব তিনি দিয়েছেন। ফেলুদা ও সন্দীপ রায়কে নিয়ে ট্রোলারদের অসংবেদনশীল মন্তব্য নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা ইন্দ্রনীল। সত্যজিৎ রায়ের পুত্র হিসেবে বরাবরই সন্দীপ রায়কে একটি বোঝা বয়ে যেতে হয়েছে। বহুবার সমালোচনার শিকার হয়েছেন সন্দীপ রায়। সেই নিয়ে কখনো পাল্টা জবাব দেননি তিনি। এবার সেই নিয়েই কথা বললেন নতুন ফেলুদা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (Indranil Sengupta)

এক সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রনীল (Indranil Sengupta) বলেন, “বাবুদার ততটা হয় তো খারাপ লাগে না, যতটা আমার খারাপ লাগে। আমার একটা প্রশ্ন আছে, যারা এই প্রকার মন্তব্য করেন, সুযোগ পেলে তারা কি দারুণ কাজ করতেন”? ব্যঙ্গের সুরে বলেন, “দেখছি তো কত ভালো কাজ করছেন তারা”!

তিনি (Indranil Sengupta) আরও বলেন, “বাবুদার বাড়িতে যারা কাজের লোক আছেন, তারাও এই সব আক্রমণকারীদের থেকে ভদ্রতা এবং ক্লাসের দিক থেকে এগিয়ে”। সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছেন, ‘সেদিন দেখলাম একটা ১৮ বছরের ছেলে বাবুদার বিষয়ে কথা বলছে। ও জানে বাবু দা কে? সন্দীপ রায়ের নামটা নিতে যে কতটা দম লাগে সেটা জানে? বাজে শব্দ ইউজ করছে,‌বাজে কথা বলছে। আমি ইমপ্রেসড বাবুদা এত শান্ত, কিছুতে রিয়েক্ট করে না।

ট্রোলিং নিয়ে ইন্দ্রনীল (Indranil Sengupta) বলেন, “আমি একটা কথা বুঝি না, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের সব আলোচনায় সোশ্যাল মিডিয়া কেন ঢুকে পড়ে? তাহলে তো বাকি মাধ্যমগুলোর অস্তিত্বের কোনও মানা হয় না। প্রিন্ট মিডিয়া, ডিজিট্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন মিডিয়া-সবকিছুর উচিত নিজেদের দোকানপাঠ বন্ধ করে দেওয়া। কারণ তারা তো নিজেদের অস্তিত্বের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নির্ভর করছে, সেটা যদিও প্রযোজ্য হয় তাহলেই এই প্রশ্নের মানে দাঁড়ায় নতুবা নয়। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী হচ্ছে সেটা জীবনে সব কাজ করার ক্রাইটেরিয়া হতে পারে। দর্শকদের একটা জিনিস ভালো লাগতে পারে কিংবা নাও লাগতে পারে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে সব বিষয়কে টেকনিক্যালি অ্যানালাইজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে ওই মানুষটার ক্রেডিবিলিটি কী? সে কে? বিষয়টা নিয়ে তাঁর সমালোচনার করার মতো যোগ্যতা রয়েছে তো”?

তিনি (Indranil Sengupta) আরও বলেন, “সমালোচনা তো সবসময়ই হত। হয়ত শুধু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ই ফেলুদার জন্য সমালোচিত হননি। কারণ সেইসময় কোনও রেফারেন্স ছিল না, কোনও তুলনা করার জায়গা ছিল না। আমি নিশ্চিত সব্যসাচী চক্রবর্তীও সমালোচিত হয়েছেন ফেলুদার জন্য। তবে ওইসময়টা সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না বলে, সমালোচনাগুলো ডিরেক্ট ওঁনার কানে পৌঁছায়নি। আজকাল কেউ নিজের বাথরুমে বসে কিছু বললেও সেটা আমাদের কানে পৌঁছে যায় সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে। সবার কথা শোনার মতো সময় বা এনার্জি কোনওটাই আমার কাছে, আমি সেটা করতেও চাই না। সোশ্যাল মিডিয়ার নয়েজটায় আমি কান দিই না সচেতনভাবে। নিজের কাজটা করে যাই”।

আরও অন্যান্য খবর