জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জগদ্ধাত্রী’-র শুটিং ফ্লোর ঘিরে এবার বড় বিতর্ক সামনে এল। অভিনেতা সৌগত দাশগুপ্তের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সেই পোস্টে তিনি সহ-অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, ধারাবাহিকের সেটে রাজনৈতিক মতভেদের কারণে তাঁকে অপমান করা হত। পোস্ট সামনে আসতেই বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিনেত্রী ত্বরিতাও নিজের পক্ষ জানিয়ে কড়া বার্তা দেন। তিনি জানান, তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। পুরো ঘটনায় এখন বিনোদন মহলে তুমুল আলোচনা চলছে।
অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়কে দর্শক বহু ধারাবাহিকে দেখেছেন। তিনি শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নন, প্রবীণ অভিনেতা তরুণ কুমারের নাতবৌমা হিসেবেও পরিচিত। কয়েক বছর আগে অভিনেতা সৌরভ চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন তিনি। মূল নায়িকার চরিত্রে সবসময় দেখা না গেলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছে দর্শকদের। বিশেষ করে ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্রটি নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকেই কাজ করতে গিয়ে এবার বিতর্কে জড়াল তাঁর নাম। শুটিং ফ্লোরের পরিবেশ নিয়েই উঠেছে নানা প্রশ্ন। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
সৌগত দাশগুপ্ত তাঁর পোস্টে লেখেন, “যখন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জগদ্ধাত্রী’তে কাজ করছিলাম তখন মূল অভিনেতাদের-ই একজন অভিনেত্রী(যে তৃণমূল এর অন্ধ ভক্ত চটিচাটা), নাম যার ‘ত্বরিতা চ্যাটার্জি / Twarita Chatterjee’ কে আমি আর আমাদের একজন সিনিয়র অভিনেত্রী, তৃণমূল এর একটা ভুল কাজ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলাম।” এরপর তাঁর অভিযোগ, “সেই দিন থেকে সেই অভিনেত্রী(Twarita Chatterjee), শুটিং ফ্লোরে আমাকে রাজনীতি আর তৃণমূল আর বিজেপি নিয়ে পদে পদে অপদস্ত করে গেছে। অনেক খিল্লি করেছে আমাকে নিয়ে। আজকে আর চেপে রাখতে পারলাম না। বলে ফেললাম।” পোস্টের শেষে সৌগত আরও লেখেন, “বি. দ্র. আমি এখনও অবধি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। তবে অবশ্যই একটা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ আছে।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
শুধু সেটের ঘটনা নয়, পোস্ট প্রকাশের পরেও চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন সৌগত। তাঁর অভিযোগ, ত্বরিতা এবং তাঁর স্বামী সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে পোস্ট মুছে ফেলতে বলেন। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি। সৌগত স্পষ্ট জানান, তিনি বর্তমানে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। তবে নিজের রাজনৈতিক মত রয়েছে এবং অপমানের ঘটনায় তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বিষয়টি আর চেপে রাখতে চাননি। সেই কারণেই প্রকাশ্যে সব কথা বলেছেন বলে দাবি করেন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ ‘উত্তরটা আর পেলাম না’, গু*লির ঘটনার আধ ঘণ্টা আগে চন্দ্রনাথকে মেসেজ মাফিনের, আস্ত সহায়কের মৃ’ত্যুতে শোকে ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী
এরপর ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি কারও নাম না লিখলেও কাকে উদ্দেশ্য করে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন অনেকে। অভিনেত্রী লেখেন, “যে অভিনেতা (আমি তাঁর নাম উচ্চারণ করতে চাই না) আমাকে হেয় করার বা আমার নামে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করেছেন, আমি তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত বৈধ প্রমাণসহ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার মানে এই নয় যে কেউ কারওর ব্যক্তিগত সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, তাঁর হয়ে এবার আইন কথা বলবে। ফলে ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকের সেট ঘিরে এই দ্বন্দ্ব এখন নতুন মোড় নিয়েছে। টলিপাড়ার নজর এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





