‘উত্তরটা আর পেলাম না’, গু*লির ঘটনার আধ ঘণ্টা আগে চন্দ্রনাথকে মেসেজ মাফিনের, আস্ত সহায়কের মৃ’ত্যুতে শোকে ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বুধবার রাতের এক ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় গু’লিবিদ্ধ হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চন্দ্রনাথের পরিবার, শুভেন্দু অধিকারী এবং দলের বহু ঘনিষ্ঠ কর্মী শোকাহত। একই সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী মাফিনও। তিনি জানান, খুব অল্প দিনের পরিচয় হলেও চন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আন্তরিক। ঘটনাটির পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

মাফিন জানান, নির্বাচনের প্রায় দেড় মাস আগে তাঁর সঙ্গে চন্দ্রনাথের পরিচয় হয়। শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে বিজেপিতে যোগদানের সময় থেকেই তাঁদের আলাপ বাড়তে শুরু করে। অভিনেত্রীর কথায়, “আসলে শুভেন্দু স্যর ও চন্দ্রনাথ খুবই ঘনিষ্ঠ। একে অপরের ছায়াসঙ্গী বলা যায়। স্যরের সঙ্গে সব সময়ে থাকতেন।” তিনি আরও বলেন, “ভীষণ নিয়ম মেনে চলা মানুষ। তবে অল্প কথা বলতেন।” রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় কাছ থেকে চন্দ্রনাথকে দেখার সুযোগ হয়েছিল বলেও জানান তিনি। অল্প দিনের পরিচয় হলেও তাঁর ব্যবহার মাফিনের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল।

ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন মাফিন। সেই সফরের সমস্ত দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ বলেই দাবি অভিনেত্রীর। তিনি বলেন, “ভোটের আগে যখন পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির হয়ে প্রচারে গিয়েছিলাম, আমার ক’টা গাড়ি লাগবে, কোন হোটেলে থাকব, সব কিছু চন্দ্রদা দায়িত্ব নিয়ে ব্যবস্থা করেছেন।” মাফিন জানান, সব কাজ খুব নিখুঁতভাবে সামলাতেন তিনি। দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজেও তাঁর দক্ষতা ছিল। সেই কারণেই দলের মধ্যে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। আচমকা তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।

সবচেয়ে আবেগঘন তথ্য সামনে আসে বুধবার রাতের একটি মেসেজকে ঘিরে। যে সময় চন্দ্রনাথ গু’লিবিদ্ধ হন বলে জানা গিয়েছে, তার প্রায় আধ ঘণ্টা আগে তাঁকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন মাফিন। অভিনেত্রী বলেন, “বুধবার রাতে আমি ওঁকে মেসেজ পাঠাই, আমি বিজেপি অফিসে গিয়েছিলাম, সেটা জানাতেই।” তিনি আরও বলেন, “আসলে দাদা তো নিজাম প্যালেসেই বেশির ভাগ থাকতেন। খুবই ভদ্রলোক ছিলেন।” এরপরই আক্ষেপের সুরে মাফিন জানান, “আফসোস হচ্ছে, দাদার কাছ থেকে আর উত্তরটা পেলাম না!” এখন তাঁর মনে হচ্ছে, হয়তো যে সময়ে তিনি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, সেই সময়েই ঘটে গিয়েছিল ভয়াবহ ঘটনা।

আরও পড়ুনঃ শঙ্কর ঘোষের ফোনেই শেষবার জীবিত শোনা গিয়েছিল চন্দ্রনাথকে! তারপরই বুক ঝাঁঝ*রা করে গু’লি, শেষে কি কথা হয়েছিল শুভেন্দুর ‘ছায়াসঙ্গী’র সঙ্গে?

চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে যেমন শোকাহত মাফিন, তেমনই শুভেন্দু অধিকারীকেও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “৪ মে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে চন্দ্রদা আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন। পুরো কলকাতার দায়িত্ব ছিল ওঁর উপর। উনিই সবটা দেখতেন।” তিনি আরও বলেন, “শুভেন্দু স্যর কত লড়াই করে জায়গাটা পেয়েছেন। তাঁর জীবনের আনন্দের দিনে এমন একটা শোক!” শেষেই মাফিন জানান, “আমরা ভাবতেই পারছি না, তাঁর উপর দিয়ে কী যাচ্ছে?” এদিকে চন্দ্রনাথের মরদেহ পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বাড়ির দিকেই রওনা দিয়েছেন অভিনেত্রীও।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles