প্রথম স্বামীকে দুর্ঘটনায় হারান বিয়ের মাত্র ১১ মাসের মধ্যেই। ২৬ বছর বয়সেই ভাগ্যে জুটেছিল বৈধব্য জীবন। দ্বিতীয় বিবাহ করেও দাম্পত্যের সুখ পেয়েছিলেন ৭ বছর। তার বেশি আর পাননি দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গ। জীবনে বারবার ঘনিয়ে এসেছে দুঃসময়। জীবনের প্রতি কোন অভিযোগ না করে শুধু লড়ে গেছেন সারাটা জীবন। তিনি লীনা চন্দভরকর।
সাল ১৯৭৫। বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা তখন লীনা চন্দভরকর। একের পর এক হিট ছবি উপহার দিচ্ছেন দর্শকদের। সেই সময়ই গোয়ার নামী রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে সিদ্ধার্থ বান্ডোতকারের সাথে বিয়ে হয় লীনার। বিয়ের ১১ দিনের মাথায় মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। নিজের বন্দুক পরিস্কার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত হঠাৎই সিদ্ধার্থের পেটে গুলি লেগে যায়। দীর্ঘ ১১ মাস লড়াই করার পর মারা যান লীনার প্রথম স্বামী সিদ্ধার্থ।
এই ঘটনায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন লীনা চন্দভরকর। তখন তিনি মাত্র বছর ২৬-এর এক তরুণী। ফিরে যান মা বাবার কাছে। কিন্তু পাননি শান্তি। বারবার অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়েছেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে। দীর্ঘ ৪ বছর এভাবেই দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে সময় পাড় করেন লীনা। অবশেষে ১৯৮০ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য বিবাহ করেন কিশোর কুমারকে।
পূর্বে ৩ বার অসুখী দাম্পত্য জীবনের পর নিজের থেকে ২১ বছরের ছোট লীনাকে বিয়ে করে সুখী হয়েছিলেন কিশোর কুমার। লীনা চন্দভরকরও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছিলেন এই সুখী দাম্পত্য জীবনের সাহায্যে। বিয়ের ২ বছর পর তাদের পুত্র সুমিতের জন্ম হয়। কিশোর লীনার সংসার তখন যেন ঠিক স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্নের সংসার ভেঙে গেল ১৯৮৭তে । স্ত্রী এবং সন্তানকে রেখে অকালে চলে গেলেন কিশোর কুমার। জীবন আরেকবার ধাক্কা দিল লীনাকে। বছর ৫ এর ছেলেকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। তখন তিনি পাশে পেয়েছিলেন কিশোর কুমারের বড় সন্তান অমিত কুমারকে।
এক মায়ের সন্তান না হলেও ভাই সুমিতকে আগলে রেখেছিলেন অমিত। হয়ে উঠেছিলেন ভাইয়ের ছায়াসঙ্গী। সেই বন্ধন আজও অটুট। অমিতকুমার বর্তমানে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে লীনাদেবী এবং ভাই সুমিতের সাথেই থাকেন । দুই ছেলেকে নিয়েই সুখে সংসার করছেন লীনা চন্দভরকর। সম্প্রতি নিজের ৭৪ তম জন্মদিন পালন করেন লীনাদেবী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী সন্তানসহ অমিত কুমার এবং সুমিত ও অন্যান্য আত্মীয়রা। সবমিলিয়ে বেশ ভালোই আছেন লীনা চন্দভরকর।





