১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই, মাত্র ২৭ বছর বয়সেই অগ্নিদ’গ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন টলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী! আ’ত্মহ*ত্যা নাকি খু’ন, এই প্রশ্নের উত্তর আজও অধরা! জানেন, মৃ’ত্যুর আগে কী ছিল মহুয়া রায়চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা?

১৯৮৫ সালের জুলাই মাসে মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছিল গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতে। টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা সেই সময় সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তাঁর অকাল প্রয়াণে ভেঙে পড়েছিলেন সহকর্মী, পরিচালক এবং অসংখ্য অনুরাগী। এত বছর পরেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে মানুষের কৌতূহল এবং আলোচনা থামেনি।

অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই নানা ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, এটি কি শুধুই দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল। পারিবারিক অশান্তি থেকে আত্মহত্যার গুঞ্জনও সে সময় শোনা গিয়েছিল। তবে এসবের কোনও স্পষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও তাঁর সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার গল্প অনেকটাই আড়ালেই থেকে যায়।

আগুনে গুরুতরভাবে দগ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মহুয়া। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, প্রথম ৭২ ঘণ্টা ছিল সবচেয়ে সংকটজনক। যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত তিনি সবাইকে ছেড়ে চলে যান।

মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবন নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বইয়ে উল্লেখ রয়েছে, তিনি অত্যন্ত আত্মসম্মানী এবং দৃঢ়চেতা মানুষ ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তিনি পরিবারের কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, আগুনে দগ্ধ অবস্থায় তাঁর চেহারা যেন পরিবারের বাইরে আর কেউ না দেখে। পরিবারের সদস্যরা সেই শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েছিলেন এবং হাসপাতালের কক্ষে বাইরের কারও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই, মাত্র ২৭ বছর বয়সেই অগ্নিদ'গ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন টলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী! আ'ত্মহ*ত্যা নাকি খু'ন, এই প্রশ্নের উত্তর আজও অধরা! জানেন, মৃ'ত্যুর আগে কী ছিল মহুয়া রায়চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা?

আরও পড়ুনঃ ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেল সম্পর্ক! তারকাহীন মমতার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ, দেখা গেল না অন্যতম ‘দিদি ভক্ত’ ভিভানকেও! সামাজিক মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়তেই, জবাবে কী বললেন অভিনেতা?

এই কারণেই অভিনেতা তাপস পালও শেষবারের মতো মহুয়াকে দেখতে পারেননি। তাঁদের জুটি তখন টলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলির একটি ছিল এবং একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়েছিল। খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছলেও মহুয়ার ইচ্ছার কথা মেনে তাঁকে ভিতরে যেতে দেওয়া হয়নি। অবশেষে ১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই মাত্র সাত দিনের লড়াই শেষে চিরবিদায় নেন মহুয়া রায়চৌধুরী। তাঁর মৃত্যু আজও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক আবেগঘন ও আলোচিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর