আর জি কর কাণ্ডে (RG kar College hospital) মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন তারকারা। এরপর সমালোচনা শুরু করেন সাধারণ মানুষ, বলতে থাকেন, বাংলা ছবি তারা বয়কট করবেন, এরপর টলি পাড়া (Tollywood) মিছিল ডাকে। জাস্টিস ফর আর জি কর বলে তারা পথে নামেন। তবে ব্যতিক্রম শ্রীলেখা মিত্র (sreelekha Mitra), স্বস্তিকা মুখার্জী (swastika Mukherjee), ঋত্বিক চক্রবর্তী, সোহিনী সরকার, জিৎ, মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar) এর মতো তারকারা। স্রোতের বাইরে হেঁটে যারা প্রতিবাদ করেছেন। সম্প্রতি মমতা শঙ্কর আরজিকর কান্ডে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে রীতিমত প্রশ্ন তুললেন।
নিজের দীর্ঘ বক্তব্যের মধ্যে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন যেমন, তেমনি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি। সবার আগে মাননীয়ার দয়ার অবতার রূপকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “যে মুখ্যমন্ত্রী বরাবর সকলের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, সেই মুখ্যমন্ত্রী কোথায়?” এরপর তার নজরে আর যে সকল ত্রুটি উঠে এসেছে সেগুলো নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন করেছেন তিনি।
আর জি কর কাণ্ডে মৃতার বাবা মাকে যখন খবর দেওয়া হয় তখন নৃশংস পরিকল্পিত এই হত্যাকে আত্মহত্যা বলে দেওয়া ও প্রশাসনের তাতে সায় দিয়ে, দ্রুততার সাথে সবকিছু ধামাচাপা দিতে একজনকে দোষী সাব্যস্ত করা এই সব নিয়ে প্রশাসনকে বিদ্ধ করেছেন মমতা শংকর। ময়নাতদন্ত নিয়ে তিনি সরাসরি বলেছেন যে, “ যে হাসপাতাল তার মৃত্যুর কারণ সেই হাসপাতালেই ময়না তদন্ত! ভাবা যায়?”
একই সাথে মমতা শংকর আরো বলেন যে, “যে ঘরে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটে, সেই ঘর সহ আশেপাশের অন্য ঘরগুলির মেরামতি শুরু হয়ে গেল। যেখানে অল্প বিস্তার সকলেই জানেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চিহ্নিত এলাকার সংস্কার করা যায় না। এসবের মধ্যে অধ্যক্ষ পদত্যাগ করলেন, তারপরেই তাকে ফের অন্যত্র পুনর্বহাল করা হল”।
এরপর ১৪ আগস্ট রাত্রে সকলের সাথে তিনিও শামিল হয়েছেন প্রতিবাদে, কিন্তু তখনই তিনি শোনেন আর জি কর হাসপাতালে পুনরায় ভাঙচুর হয় এবং পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকে, কেন জিজ্ঞেস করেছেন তিনি? তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারছি, পুলিশের হাত-পা বাঁধা। ওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেদিন যেন নিষ্ক্রিয় থাকে অথচ দেখুন তারপরে পুলিশ কত সক্রিয় বিশেষ করে রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে”।
একই সাথে মমতা শঙ্কর বলেন যে, রাজ্য সরকার কি বুঝতে পারছেন না, তাদের নেওয়া প্রত্যেকটা পদক্ষেপে জনগণ রেগে যাচ্ছেন। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই অভিনেত্রীর প্রশ্ন, “মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন? ওর কথা শুনে মনে হচ্ছে না, উনি বুঝছেন, বুঝলে তিনি বলতেন না ‘ওর জন্য যা করতে হয় করব, যত টাকা লাগে, দিয়ে দেব।’ অর্থ দিয়ে অপমান, অসম্মান, মৃত্যু কেনা যায়? এখানেই শেষ নয়, এরপর তিনি মিছিল বের করলেন জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে নারকীয় ঘটনার গায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগাতে যেন সবই বিরোধীপক্ষের ষড়যন্ত্র। কার বিরুদ্ধে এই মিছিল? স্বাস্থ্য প্রশাসন সবই তো ওর হাতে! ওকে ঘিরে মুখে কুলুপ এঁটে দাঁড়িয়ে থাকেন শাসকদলের মহিলা বিধায়ক সাংসদেরা, ওদের লজ্জাও করল না”।
একই সাথে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী কার বুদ্ধিতে চলছেন? বর্তমান পরিস্থিতি দেখে খুব জানতে ইচ্ছে করছে।” এই আন্দোলন যে রাজ্য দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তর স্পর্শ করছে এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, “কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে অপরাধীকে, ফাঁসি নয় যে কষ্ট পেয়ে নির্যাতিতার মৃত্যু হয়েছে, সেই কষ্ট তাকেও দিতে হবে আর মেয়েদের পাশে মেয়েদেরকেই বেশি করে দাঁড়াতে হবে।”





