“যার সৃষ্টির মাধ্যমে আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হয়েছিলাম…” অনীক দত্তের মৃ’ত্যুতে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন, বর্ষীয়ান অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়! ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির কোন স্মৃতি আজও ভোলেননি?

পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। বহু ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে তাঁদের সম্পর্ক শুধুই পেশাগত ছিল না, বরং এক গভীর বন্ধুত্বও তৈরি হয়েছিল। খবরটি শোনার পর থেকেই যেন মানতে পারছেন না অভিনেতা। আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর কথায়, যে কোনও মানুষের মৃত্যু কষ্টের হলেও অনীকের চলে যাওয়া আরও বেশি যন্ত্রণার। কারণ মানুষ হিসেবে অনীক ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পরিশীলিত মানসিকতার। তাই স্বাভাবিকভাবেই তিনি সকলের প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। পরানের কথায়, অনীক শুধু পরিচালক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সত্যিকারের বন্ধু।

কথা বলতে বলতেই আবেগঘন হয়ে পড়েন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, অনীকের পরিচালনায় তিনি একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেই ছবিগুলোর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক স্তরেও বিশেষ সম্মান পেয়েছিল। সেই ছবির জন্যই সেরা অভিনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। অভিনেতার দাবি, তাঁর জীবনে এই সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর পিছনে অনীকের অবদান তিনি কখনও ভুলবেন না। পরান বলেন, “অনীকই একমাত্র বন্ধু, যার সৃষ্টির মাধ্যমে আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হয়েছিলাম।” এই স্মৃতি মনে পড়তেই চোখে জল আসে অভিনেতার। তাঁর মতে, এমন প্রাপ্তির স্মৃতির উপর আজ শুধুই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরান আরও জানান, এই খবর যদি তাঁকে শুনতে না হত, তা হলে তিনি অনেক বেশি শান্তিতে থাকতেন। কারণ অনীকের মতো মানুষকে হারানোর কষ্ট সহজে মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, অনীকের মূল্যবোধ, সমাজ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। মানুষ হিসেবে তিনি যেমন ভাল ছিলেন, তেমনই তাঁর ছবিতেও সেই সংবেদনশীলতার ছাপ পাওয়া যেত। তাই সহকর্মী থেকে দর্শক, সকলেই তাঁকে ভালবাসতেন। অভিনেতার মতে, অনীক খুব সহজেই মানুষের মন জয় করতে পারতেন। তাঁর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আজ আরও বেশি করে মনে পড়ছে পরানের।

পরান বন্দ্যোপাধ্যায় অনীক দত্তের পরিচালনায় ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এই ছবিগুলিতে তাঁদের কাজের বোঝাপড়া দর্শকদেরও নজর কেড়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই তাঁদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তাই পরিচালকের মৃত্যু শুধু চলচ্চিত্র জগতের ক্ষতি নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও বড় ধাক্কা অভিনেতার কাছে। তিনি জানিয়েছেন, অনীকের মতো সৃষ্টিশীল মানুষ খুব কমই দেখা যায়। তাঁর কাজ এবং ভাবনা আগামী দিনেও মানুষের মনে থেকে যাবে। বাংলা সিনেমার জন্য এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলেও মনে করছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘এমন একজন শিরদাঁড়া শক্ত মানুষকে হারানো অনেকটা বড় ক্ষতি, মেনে নেওয়া কঠিন যে…’, অনীক দত্তের মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়লেন চৈতি ঘোষাল! প্রয়াত পরিচালকের সাহসিকতার গল্প শোনালেন অভিনেত্রী?

বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন পরিচালক অনীক দত্ত। ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই খবর সামনে আসতেই টলিউডে নেমে আসে শোকের ছায়া। একের পর এক শিল্পী, অভিনেতা ও পরিচালকেরা শোকপ্রকাশ করতে শুরু করেন। তাঁদের মধ্যেই নিজের আবেগ লুকোতে পারেননি পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ দিনের সহকর্মী ও বন্ধুকে হারিয়ে আজ তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর