পদ্মশ্রী পেলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তবুও মনে রয়ে গেল বড় আক্ষেপ! টলিউড ‘ইন্ডাস্ট্রি’র অধরাই থেকে গেল কোন প্রাপ্তি?

টলিউডে তিনি একটাই নাম, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা সিনেমার অন্যতম মুখ হয়ে রয়েছেন তিনি। আশির দশকে ‘অমর সঙ্গী’ ছবির রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে দর্শকের মন জয় করেছিলেন বুম্বাদা। তারপর সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে ফেলেছেন বারবার। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি সমান্তরাল ধারার সিনেমাতেও সমান দক্ষতায় কাজ করেছেন তিনি। ‘চোখের বালি’, ‘দোসর’, ‘অটোগ্রাফ’ কিংবা ‘জাতিস্মর’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় নতুনভাবে চিনিয়েছে তাঁকে। বাংলা সিনেমাকে দীর্ঘদিন ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্বও অনেকেই দেন এই অভিনেতাকে। সম্প্রতি ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছে। সোমবার রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সেই পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। এই স্বীকৃতিতে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে গোটা বাংলা জুড়ে।

তবে এত সম্মান এবং জনপ্রিয়তার মাঝেও একটি আক্ষেপ যেন এখনও রয়ে গেছে অভিনেতার কেরিয়ারে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে এখনও পর্যন্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘সেরা অভিনেতা’র সম্মান পাননি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যদিও জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চ থেকে তিনি একেবারে খালি হাতে ফেরেননি। ২০০৬ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘দোসর’ ছবিতে তাঁর অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ‘স্পেশ্যাল জুরি মেনশন’। ছবিতে এক জটিল সম্পর্ক ও দুর্ঘটনার পর বদলে যাওয়া মানুষের চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছিল সর্বত্র। সেই বছর অনেকেই মনে করেছিলেন সেরা অভিনেতার পুরস্কার তাঁর হাতেই উঠবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধান সম্মানটি তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। ফলে সেই আক্ষেপ আজও থেকে গিয়েছে তাঁর ভক্তদের মনে।

বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের একাংশের মতে, জাতীয় পুরস্কারের বিচারপর্বে বারবার অবহেলার শিকার হয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ‘চোখের বালি’ ছবির মহিন্দ্র চরিত্র হোক কিংবা ‘অটোগ্রাফ’-এর অরুণ চ্যাটার্জি, তাঁর অভিনয় বহু দর্শক ও সমালোচকের নজর কেড়েছিল। বিশেষ করে ‘জাতিস্মর’ ছবিতে তাঁর অভিনয় নিয়ে অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার হয়তো জাতীয় পুরস্কারের খরা কাটবে। লালন ফকিরের চরিত্রে তাঁর অভিনয় নিয়ে তখন প্রবল আলোচনা হয়েছিল সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে। অনেক সমালোচকও মনে করেছিলেন, সেই অভিনয় জাতীয় স্তরে সম্মান পাওয়ার মতোই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেবারও জাতীয় সেরা অভিনেতার পুরস্কার অধরাই থেকে যায় তাঁর কাছে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে টলিপাড়ায় আলোচনা আজও থামেনি।

অন্যদিকে, তাঁর সমসাময়িক বা পরবর্তী প্রজন্মের অনেক অভিনেতাই জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এমনকি বয়সে অনেক ছোট ঋদ্ধি সেন-ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পেয়েছেন। সেই কারণেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেও কেন এখনও সেই স্বীকৃতি পেলেন না প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যদিও অভিনেতা নিজে বহু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। সিনেমার জন্য নিজের জীবনের বহু বছর তিনি স্টুডিও ফ্লোরে কাটিয়ে দিয়েছেন। তাই ট্রফি বা পুরস্কারের চেয়ে দর্শকের গ্রহণযোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তবুও তাঁর অনুরাগীদের একাংশ মনে করেন, জাতীয় সেরা অভিনেতার সম্মান তাঁর প্রাপ্য ছিল।

আরও পড়ুনঃ শুরু হয়েছে ‘দাদা’-র শ্যুটিং! সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটবেলার চরিত্রে ‘ফ্যামিলি ম্যান’-এর পরিচিত মুখ! তরুণী ডোনার ভূমিকায় থাকছেন কোন বাঙালি অভিনেত্রী?

বর্তমানে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পাওয়ায় নতুন করে গর্বিত বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ। এই সম্মানের মাধ্যমে রাষ্ট্র তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে একই সঙ্গে আবারও সামনে এসেছে জাতীয় পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গ। টলিউডের অন্দরে এখনও অনেকেই বলেন, বলিউড বা দক্ষিণী তারকাদের মতো জাতীয় স্তরে কদর পাননি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এই বিষয়টি বড় আক্ষেপ হিসেবেই থেকে যাবে বলেও মত একাংশের। তবে তাঁর অসংখ্য ভক্ত এখনও আশাবাদী, ভবিষ্যতে কোনও একদিন জাতীয় সেরা অভিনেতার সম্মানও উঠবে তাঁর হাতেই। কারণ তাঁদের মতে, বাংলা সিনেমায় তাঁর অবদান এবং অভিনয়ের গভীরতা সেই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

আরও অন্যান্য খবর