আইনের চোখে দীর্ঘদিন ধরেই ‘ফেরার’ ছিলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন তিনি। তবে শেষরক্ষা আর হল না। নিউটাউনে পথসুরক্ষা বিধি ভাঙার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন প্রশান্ত। আর সেই গ্রেফতারির পরেই নতুন করে সামনে চলে এসেছে বহু চর্চিত স্বর্ণব্যবসায়ী খুনের মামলাও। পুলিশ সূত্রে খবর, এবার সেই মামলাতেও তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় পুরো ঘটনা। অভিযোগ, মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। আচমকাই তাঁর গাড়ি এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে ওই ব্যক্তি ছিটকে গিয়ে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্কুটারের উপর পড়েন বলে অভিযোগ। ঘটনায় আহত হন ওই পথচারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পর প্রশান্তের আচরণ ছিল অসংলগ্ন। ঘটনাস্থলেই পথচারীর সঙ্গে তাঁর বচসাও শুরু হয়। পরে স্কুটার আরোহী গাড়িটি আটকান এবং খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ইকো পার্ক থানার পুলিশ এবং রাতেই প্রশান্তকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে ‘মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট’-এর আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে। পাশাপাশি, বহুদিন ধরে তদন্তে থাকা স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলাতেও প্রশান্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে তদন্তকারীরা। ফলে এই গ্রেফতারি যে শুধুমাত্র পথ দুর্ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা এখন স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালধার থেকে উদ্ধার হয় স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল। সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। প্রথমদিকে বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিনও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে সেই জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। হাই কোর্ট আগাম জামিন খারিজ করে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এরপর গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও একই নির্দেশ বহাল রাখে।
আরও পড়ুনঃ পদ্মশ্রী পেলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তবুও মনে রয়ে গেল বড় আক্ষেপ! টলিউড ‘ইন্ডাস্ট্রি’র অধরাই থেকে গেল কোন প্রাপ্তি?
কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরেও দীর্ঘদিন পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন প্রশান্ত। কোথায় লুকিয়ে ছিলেন, কীভাবে এতদিন আত্মগোপন করে ছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। অবশেষে একটি পথ দুর্ঘটনার অভিযোগেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। এখন নজর আদালতের দিকে। তদন্তকারীদের দাবি, স্বর্ণব্যবসায়ী খুনের মামলায় প্রশান্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। ফলে এই গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে।






