অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই নেটপাড়ায় এবং সিনেমা জগতে চলছে জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই মনে করছেন এটি কি শুধুই শুটিংয়ের দুর্ঘটনা নাকি আছে অন্য কোনও কারণ। মৃত্যু পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গেলে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন রাহুলের দীর্ঘদিনের সহচর ও গাড়িচালক বাবলু দাস। তিনি নিজেও নিশ্চিত করলেন, দুর্ঘটনার মুহূর্তে তিনি উপস্থিত ছিলেন, তবে কিছু করতে পারেননি।
বাবলু দাস জানান, ঘটনার সময় সবকিছু যেন চোখের সামনে ফ্ল্যাশ হয়ে গেল। তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে রাহুল আর নেই। শুটিংয়ের অনেক মুহূর্তের স্মৃতি মনে আনে তিনি। সেই দিনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে, তিনি দেখেছেন যে জলের গভীরতা এবং স্রোত বেশি শক্তিশালী ছিল। রাহুল সম্ভবত সেটি পুরোপুরি বোঝতে পারেননি এবং নিজের শরীর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। জোয়ার ওঠার সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গিয়েছিল।
দুর্ঘটনার পর শুটিং ইউনিটের ছয় থেকে সাত জন টেকনিশিয়ান জীবন ঝুঁকি নিয়ে জলে নামেন রাহুলকে উদ্ধার করার চেষ্টা করতে। বাবলু জানান, অনেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তবে তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। রাহুল সাঁতার জানলেও নার্ভাস হয়ে যাওয়ায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। জলের স্রোত যতটা কম মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।
বাবলু আরও জানান, জল থেকে রাহুলকে তুলার পর তিনি অজ্ঞান ছিলেন। সবাই চেষ্টা করেছিলেন জল বের করার জন্য, তবে তখনও তাতে কোনো কাজে আসেনি। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই রাহুলের প্রাণ শেষ হয়ে যায়। শুটিং সেটে উপস্থিত প্রত্যেকেই সেই ভয়ংকর মুহূর্ত মনে রেখে কাঁপছেন। এই ঘটনা পুরো ইউনিট এবং শিল্পী মহলকে শোকাহত করেছে।
আরও পড়ুনঃ জেনে গিয়েছিলেন আগেই, মৃ’ত্যু আসন্ন? নিজের শেষ অধ্যায়টা নিজের হাতেই লিখে গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়! সেই ভাইরাল পুরনো লেখায় শিহরিত নেটদুনিয়া! জানেন কী ছিল সেখানে?
শিল্পী মহল ও ভক্তরা এখনও এই দুর্ঘটনার শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেশাদারিত্ব এবং বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব অনেকের মনে অম্লান স্মৃতি রেখে গিয়েছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিনেতার অনুপস্থিতি সিনেমা জগতে দীর্ঘদিন শূন্যতা তৈরি করবে, এবং তাঁর শিল্পী সহকর্মীরা এই ক্ষত সহজে সামলাতে পারবে না।





