রাহুলের মৃত্যুর প্রতিবাদে সরব টলিপাড়া, ‘ন্যায়বিচার চাই’ স্লোগানে পদযাত্রায় নামছেন তারকারা

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী থেকে ভক্ত কেউই। তালসারিতে শুটিং চলাকালীন ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি এখনও। একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে, বিশেষ করে প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই রাহুলকে স্মরণ করে এবং তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত সত্য সামনে আনার দাবিতে আয়োজন করা হয়েছে একটি প্রতিবাদী পদযাত্রার।

ফেডারেশনের সভাপতিও এই পদযাত্রাকে ঘিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, এই মৃত্যু শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। তাঁর কথায়, শিল্পী ও কলাকুশলীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তাই এই ঘটনার নেপথ্যের সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তিনি নিজেও এই প্রতিবাদে শামিল হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

এই পদযাত্রা ইতিমধ্যেই টলিপাড়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচিত মুখ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সংগঠকদের তালিকায় রয়েছেন পরিচালক, অভিনেতা, গীতিকার সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের একটাই দাবি, রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হোক এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক। এই পদযাত্রা শুধু শোক প্রকাশ নয়, বরং একসঙ্গে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে চলেছে।

তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মিছিলের বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে সংগঠন হিসেবে তারা এই পদযাত্রার আয়োজক বা অংশীদার নয়। যদিও কোনও শিল্পী ব্যক্তিগতভাবে এতে যোগ দিতে চাইলে তাতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থান ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মতপার্থক্যকেও সামনে এনে দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় সং*ঘর্ষে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ! ভবানীপুর কাণ্ডে দুই ডিসিপিকে শোকজ করে কড়া বার্তা লালবাজারের!

সব মিলিয়ে শনিবারের এই পদযাত্রা এখন টলিউডের অন্যতম বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কে কে শেষ পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে যোগ দেন, তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, রাহুলের মৃত্যু শুধু শোক নয়, ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সকলকে। এই প্রতিবাদ আদৌ কোনও পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles