ভোটের দিন সাধারণত শান্ত ও নির্দিষ্ট রুটিনেই থাকেন তিনি। কিন্তু এবার ছবিটা একেবারেই অন্যরকম। রাতভর অস্থিরতার পর ভোর হতেই রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখে ক্লান্তির ছাপ, গলায় ক্ষোভ সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে কতটা উত্তপ্ত, তা যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল তাঁর আচরণে।
সকালেই ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেরিয়ে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। প্রথম গন্তব্য ছিল চেতলা, ফিরহাদ হাকিমের পাড়া। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আগের রাতটা তাঁর প্রায় নির্ঘুম কেটেছে। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, এমনকি অনেককে তুলে নিয়েও যাওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এভাবে ভোটের পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।”
ক্রমশই অভিযোগের মাত্রা বাড়িয়ে মমতা দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পর্যবেক্ষকদের একাংশ নাকি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন, তারা নির্দেশ মানবেন না। “আমাদের সব ছেলেদের তুলে নিচ্ছে,” এই মন্তব্যে পরিস্থিতির গভীরতা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন প্রার্থী হিসেবে রাস্তায় নেমেছেন।
রাতের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে মমতা আরও জানান, তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। কাউন্সিলর অসীম বসুকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তাঁর দাবি, গভীর রাতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে পরিবারগুলোর মধ্যে। এই ঘটনাগুলিকে তিনি “তাণ্ডব” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সারা রাত জেগে তিনি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুন: যৌ’ন হেন’স্তার হুম’কি আসছে দিনরাত! বাধ্য হয়ে সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের রূপাঞ্জনা মিত্রের! কার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন অভিনেত্রী?
এদিকে ভোটের উত্তাপ ছড়িয়েছে অন্য প্রান্তেও। ভবানীপুরে মমতার ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করে পুলিশ জানায়, ভোটকেন্দ্রের কাছে বেশি লোক জমায়েত করা যাবে না। একইসঙ্গে খিদিরপুরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে উত্তেজনা থাকলেও প্রশাসন শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে তৎপর এমনটাই জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।





