Rakhee Gulzar: রাখি গুলজারের মানবিক দিক! ‘টোকেন মানি পেয়ে সেটা ওয়াকার্সদের মধ্যে বিলিয়ে দিতাম’!

আজকালকার পৃথিবীতে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া আর স্টাইলের প্রতি আগ্রহ তুঙ্গে, সেখানে কিছু মানুষ যেন সম্পূর্ণ আলাদা। রাখি গুলজার, সেই মানুষদের মধ্যে একজন। একসময় গ্ল্যামার আর সিনেমার আলোয় ঝলমলে তারকা, আজ তিনি এক নতুন পরিচয়ে উঠে এসেছেন। বয়স যতই বাড়ুক, নিজের শিকড়ে ফিরে যাওয়া যেন তার জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাখি গুলজারের জীবনে এই পরিবর্তন, তার দর্শন এবং আসন্ন ছবি “আমার বস”-এর মাধ্যমে এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে।

২০২৫ সালের ৯ মে মুক্তি পেতে চলেছে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়ের নতুন ছবি ‘আমার বস’। এই ছবির মাধ্যমে দীর্ঘ ২০ বছরের বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরছেন রেখাজী। মুম্বই থেকে কলকাতা এসে শুটিংয়ের সাথেই তিনি ভাগ করেছেন একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। ‘আমার বস’ ছবির গল্প মা এবং সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে, যেটি বর্তমান সময়ে খুবই প্রাসঙ্গিক। এখনকার যান্ত্রিক জীবনে মানুষের কাছে আত্মীয়দের প্রতি যত্ন ও দায়িত্ব বোধের অভাব বাড়ছে, এবং এই ছবির মাধ্যমে পরিচালকদ্বয় সেই বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় পর্দায় ফিরতে গিয়ে রেখাজী জানিয়েছেন, তাকে এখন আর গ্ল্যামার আকর্ষণ করে না। তার জীবন এখন অনেকটাই সাধারণ। শৈশবের স্মৃতির খোঁজে, কলকাতা শহরের রাস্তাঘাট, হোটেল এবং ছোট ছোট খুশির মুহূর্তগুলি মনে করেন তিনি। ‘আমি আর সেই গ্ল্যামার পছন্দ করি না,’ রাখির এসব কথায় আবেগের লুকোনো স্তর যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনই তার সহজ-সরল জীবনধারা নিয়ে কথা বলেন।

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে রেখাজী সম্পর্কটা খুবই বিশেষ। তার ভাষায়, “শিব আর প্রসাদ”, এই দুটি নাম একে অপরকে মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছু। শিবপ্রসাদ জানিয়েছেন, রাখি গুলজারের মনের মধ্যে কিছু আবেগের টান রয়েছে, যা একমাত্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। ‘আমার বস’ ছবির প্রস্তাব নিয়ে শিবপ্রসাদ রেখাজীকে মুম্বই থেকে কলকাতায় নিয়ে এসেছেন। রেখাজী একসময় তার ভাইকে হারিয়েছিলেন এবং সেই সময় শিবপ্রসাদকে কলকাতায় আসতে বলেছিলেন। শিবপ্রসাদ তার সেই আবদার পূরণ করেন।

কিন্তু রেখাজী গুলজারের জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত কিন্তু প্রশংসনীয় দিকটা হল তার বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা। রাখি গুলজার এক সময় কাজ করেছেন হিন্দি, অসমিয়া এবং উড়িয়া ছবিতে, এবং তিনি জানিয়েছেন, যে টোকেন মানি তিনি পেয়েছিলেন, তা তিনি কর্মীদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। এই পন্থা দেখিয়ে রেখাজী তার মানবিকতা এবং সিনেমার প্রতি এক অদ্বিতীয় ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। রেখাজী মনে করেন, ‘গ্ল্যামার আর অতিরিক্ত ঝলকানী তার পক্ষে কিছু নয়।’

আরও পড়ুনঃ Pahalgam Attack : সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়!পহেলাগাঁও ঘটে যাওয়া বিতান অধিকারীর মৃত্যুর পরেই দুঃখ ভুলে চাঁদা তুললেন স্ত্রী!

‘আমার বস’-এর ট্রেলার লঞ্চে রাখি গুলজারের উপস্থিতি যেন সোনালি দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়, সেই সময়ের কথা যখন ছবি শুটিংয়ের পর সবাই একসঙ্গে রান্না করে খাওয়ার আনন্দে মেতে উঠতেন। রেখাজী জানান, এখনকার চলচ্চিত্রের চকচকে দুনিয়া তাকে খুব বেশি আকর্ষণ করে না, এবং তিনি তার জীবনে শান্তি এবং প্রকৃতির সঙ্গে কাটানোর দিকে বেশি আগ্রহী।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর