বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খানকে ঘিরে বহু বছর ধরেই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, তিনি এখনও কেন বিয়ে করেননি? বয়স প্রায় ষাট ছুঁইছুঁই হলেও তিনি আজও ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে চর্চিত ব্যাচেলরদের একজন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্ট নতুন করে সেই জল্পনাকে উসকে দেয়। পোস্টে অভিনেতা লিখেছিলেন, তিনি খুব একা অনুভব করছেন এবং একাকীত্ব তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে। এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে চিন্তা বাড়ে। এমনকি তাঁর মা সালমান খানও নাকি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। পরে অবশ্য নিজেই সেই বিতর্ক থামিয়ে দেন ভাইজান। তিনি স্পষ্ট বলেন, এত বড় পরিবার, অসংখ্য বন্ধু আর কোটি কোটি ভক্তের ভালবাসা থাকলে নিজেকে কখনও একা বলা যায় না।
তবে এই ঘটনাই আবার সামনে নিয়ে আসে সেই পুরনো প্রশ্ন, সম্পর্ক থাকলেও কেন বারবার বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে গিয়েছেন সালমান খান? এই বিষয়ে কয়েক বছর আগে মুখ খুলেছিলেন তাঁর বাবা তথা বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ছেলের ব্যক্তিত্বের মধ্যেই রয়েছে এমন কিছু দ্বন্দ্ব যা শেষ পর্যন্ত বিয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর মতে, সলমন খুব সহজেই কাছের মানুষের প্রতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেন, তাঁদের প্রতিই আকর্ষণ তৈরি হয়। সিনেমার শুটিং চলাকালীন কাছাকাছি কাজ করতে করতেই অনেক সম্পর্কের শুরু হয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
সালমান খান আরও বলেন, সমস্যা তৈরি হয় সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর। কারণ সলমন মনে করেন, সংসার জীবনে তাঁর স্ত্রীকে অনেকটা ঘরোয়া জীবন বেছে নিতে হবে। তিনি চান তাঁর সঙ্গী পরিবারকে সময় দিন, ঘরের দায়িত্ব সামলান এবং সন্তানদের দেখভাল করুন। তাঁর ভাবনায় একজন আদর্শ স্ত্রী সেই মানুষ, যিনি সংসারকে প্রথম গুরুত্ব দেবেন। আর এই জায়গাতেই বাস্তবের সঙ্গে মতের অমিল তৈরি হয়। কারণ যাঁদের সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই সফল অভিনেত্রী এবং নিজেদের কেরিয়ার নিয়ে ভীষণ সচেতন ছিলেন। ফলে দু’জনের ভাবনার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন: টলিউড অভিনেতাদের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রমী আবির চট্টোপাধ্যায়! ইন্ডাস্ট্রি বা রাজনীতি, বিতর্ক থেকে বরাবর দূরে! নিজের ছবির হল ভিজিটেও যান না তিনি! অভিনেতা জানালেন কোন কারণ?
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সালমান খান নিজের ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর মধ্যে অনেকটাই তাঁর মা সালমান খানের ছায়া খুঁজতেন। তিনি চাইতেন, তাঁর স্ত্রী সংসারের সব দায়িত্ব নিজের হাতে সামলান। সকালে সন্তানদের স্কুলের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, পড়াশোনা কিংবা পরিবারের দেখভাল, সবকিছু যেন নিখুঁতভাবে করেন। কিন্তু বর্তমান সময়ের একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীর পক্ষে হঠাৎ করে কেরিয়ার ছেড়ে সম্পূর্ণ গৃহবধূর জীবন বেছে নেওয়া সহজ নয়। সেলিম খানের কথায়, কোনও সম্পর্ক যতই গভীর হোক না কেন, এই মানসিক পার্থক্য মিটিয়ে ফেলা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আর সেই কারণেই একাধিক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়ের দিকে এগোয়নি।
এখন অবশ্য ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে চান না সালমান খান। তিনি নিজের কাজ এবং নতুন সিনেমা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’-তে দেখা যেতে পারে তাঁকে। যদিও ছবিটি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ঘোষণা হয়নি, তবুও অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা চললেও, সলমন বরাবরই নিজের কাজকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আর সেই কারণেই হয়তো ব্যক্তিগত প্রশ্নের থেকেও তাঁর পেশাগত জীবনই বারবার শিরোনামে উঠে আসে।






