পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ফের আলোচনায় উঠে এলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। ব্রিগেডে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন সায়ক। এরপরই বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। অনেকেই তাঁর এই উপস্থিতিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে জুড়ে দেখতে শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। সমর্থন ও সমালোচনা মিলিয়ে নেটদুনিয়ায় তৈরি হয় নতুন বিতর্কের পরিবেশ।
সায়ক চক্রবর্তী এর আগেও একাধিকবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন। চলতি বছরের শুরুতে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের একটি রেস্তরাঁয় খাবার নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যাকে ঘিরে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, অর্ডার করা খাবারের বদলে অন্য খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং সোশাল মিডিয়াতেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। বিষয়টি সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। একাংশ তাঁর বক্তব্যের পাশে দাঁড়ালেও অনেকে সমালোচনা করেন। সেই সময় কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকে।
ঘটনার জেরে সায়ক কিছুদিনের জন্য সোশাল মিডিয়া থেকেও দূরে সরে যান। আগের মতো নিয়মিত পোস্ট বা লাইভে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে সম্প্রতি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র প্রকাশের পর ফের তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। শুক্রবার রাতে পোস্টটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুষ্ঠানে কোনও মিছিলে অংশ না নিয়েও ডাক পেলেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই নানা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। কেউ পুরনো বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন, আবার কেউ রাজনৈতিক কটাক্ষ করেন। ধীরে ধীরে মন্তব্যের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই পোস্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন কেন তাঁকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হল। আবার কেউ মনে করেন, বিষয়টি শুধুই ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ হলেও তা অযথা রাজনৈতিক রূপ পাচ্ছে। পুরনো গোমাংস বিতর্কের প্রসঙ্গও নতুন করে সামনে আসে। কয়েকজন নেটিজেন তাঁর আগের মন্তব্য ও লাইভ ভিডিওর কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে তাঁর অনুগামীরা দাবি করেন, কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়া ব্যক্তিগত বিষয়। সব মিলিয়ে পোস্টটি ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয় সোশাল মিডিয়ায়।

আরও পড়ুনঃ “আইপ্যাকের পেজ ম্যানেজমেন্ট…” শুভেন্দু অধিকারীর শপথের পরেও মমতার ফেসবুকে উজ্জ্বল ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বায়ো ঘিরে কী বললেন অরিত্র দত্ত বণিক?
এদিকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে সায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও অভিনন্দন জানান। তিনি সোশাল মিডিয়ায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করেন। সেই পোস্ট নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে তাঁর এই অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও সায়ক নিজে এখনও বিস্তারিতভাবে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে পোস্ট ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আবারও তাঁকে সংবাদ শিরোনামে ফিরিয়ে এনেছে। এখন তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে অনলাইন মহলে।





