শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দানে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল বাংলা। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী শপথবাক্য পাঠ করেন এবং তাঁকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর আলোচনা। অনেকেই একে বাংলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করেন। শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে থাকে। তবে রাজনৈতিক ঘটনার পাশাপাশি অন্য একটি বিষয়ও নেটিজেনদের নজরে আসে। সেটি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক প্রোফাইলে এখনও ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় লেখা থাকা। সেই নিয়েই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
শপথগ্রহণের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পুরনো পদবী দেখা যাওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শনিবার সকাল পর্যন্ত বায়োতে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চর্চা আরও বাড়ে। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, সরকার বদলের পরেও কেন সেই তথ্য আপডেট করা হয়নি তা স্পষ্ট নয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতামত সামনে আসতে থাকে। কেউ এটিকে সাধারণ প্রযুক্তিগত বিলম্ব বলেও ব্যাখ্যা করেন। আবার অনেকে এটিকে প্রশাসনিক গাফিলতি হিসেবে দেখেন। ফলে ফেসবুকের একটি ছোট পরিবর্তন নিয়েই বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন অরিত্র দত্ত বণিক। তাঁর পোস্টে তিনি সরাসরি আইপ্যাকের পেজ ম্যানেজমেন্টকে কটাক্ষ করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, সম্ভবত ভয় পেয়ে পেজ ম্যানেজার পালিয়ে গিয়েছেন অথবা ছুটিতে মন্দারমণিতে রয়েছেন, তাই এখনও পেজে ‘চিফ মিনিস্টার’ টাইটেল সরানো হয়নি। পাশাপাশি তিনি ব্যঙ্গ করে আরও লেখেন, যদি শুধু ফেসবুকে পদবী লিখলেই দায়িত্ব পাওয়া যায়, তাহলে তিনিও নিজের প্রোফাইলে প্রধানমন্ত্রী লিখে দিতে পারেন। তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। অনেকেই সেই পোস্ট শেয়ার করে নানা প্রতিক্রিয়া জানান। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তনের খবর সামনে আসে। সূত্রের খবর, পূর্বতন সরকারের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এরপর রাজ্যপাল আরএন রবি পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেই সিদ্ধান্তের পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা আরও বাড়তে থাকে। সরকার পরিবর্তনের এই সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ার এই ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থকরাও নিজেদের মতো করে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে থাকেন। একদিকে প্রশাসনিক পরিবর্তন, অন্যদিকে অনলাইন বিতর্ক, দুই মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ টলিউডের ‘অরাজনৈতিক’ তারকাও পড়লেন পদ্মের মোহে? ফেডারেশন থেকে রাজনৈতিক বিতর্ক সবকিছু এড়িয়ে চলা জিৎ, শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বাড়ালেন জল্পনা!
শেষ পর্যন্ত শনিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজে পরিবর্তন দেখা যায়। পরে পুরনো ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় সরিয়ে নতুন তথ্য আপডেট করা হয়েছে বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিতর্কের পর এই আপডেট ঘিরেও নতুন আলোচনা শুরু হয়। কেউ বলেন এটি স্বাভাবিক নিয়মে করা হয়েছে, আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন এত দেরি কেন হল। যদিও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। রাজনৈতিক মহলও পরে অন্য ইস্যুর দিকে নজর দেয়। তবে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও একটি ফেসবুক বায়ো রাজ্যের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।





